• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

গাজায় রক্তের নহরে এবার ১৮০ আকাশচুম্বী অট্টালিকা!

প্রকাশিত: ১৯:৫৬, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৯:৫৮, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
গাজায় রক্তের নহরে এবার ১৮০ আকাশচুম্বী অট্টালিকা!

ছবি: এবিসি নিউজ

ফিলিস্তিনের গাজায় লাখো মানুষের রক্তের নহরে এবার আধুনিক শহর নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাকে ঘিরে এক বিস্ফোরক মাস্টারপ্ল্যান তুলে ধরেছেন তিনি।  তার ভাষায়, ‘আমাদের একটি মাস্টারপ্ল্যান আছে।’

ট্রাম্পের তথাকথিত ‘গাজা শান্তি সনদ’ স্বাক্ষরের পরপরই উপস্থাপিত এই পরিকল্পনায় কুশনার জানান, হামাস নিরস্ত্র না হলে গাজার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ সম্ভব হবে না। 

কুশনারের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গাজার উপকূলে ব্যাপক নগরায়ণের কথা বলা হয়েছে। এতে রয়েছে উপকূলীয় পর্যটন অঞ্চল, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, দুটি নতুন শহর, ১৮০টি আকাশচুম্বী ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

উপস্থাপনায় দেখানো মানচিত্র অনুযায়ী, গাজার সমুদ্র উপকূলে পর্যটন জোন গড়ে তোলা হবে, যেখানে বহু আকাশচুম্বী ভবন—বিশেষ করে হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। মিসর সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় সমুদ্রবন্দর এবং সেখান থেকে ভেতরের দিকে বিমানবন্দরের অবস্থান দেখানো হয়। উল্লেখ্য, গাজার আগের বিমানবন্দরটি দুই দশকেরও বেশি আগে ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়।

নতুন দুটি শহরের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ‘নিউ রাফা’ ও ‘নিউ গাজা’। কুশনার জানান, নিউ রাফায় এক লাখের বেশি আবাসিক ইউনিট, ২০০টির বেশি স্কুল ও অন্তত ৭৫টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থাকবে। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘নিউ গাজা’ হবে একটি শিল্পনগরী, যেখানে শতভাগ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

তবে এত বড় কর্মযজ্ঞ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—সে বিষয়ে কুশনারের ব্যাখ্যা ছিল সীমিত। তিনি বলেন, শুরুতে সরকারগুলো অর্থায়নে এগিয়ে আসবে এবং শিগগিরই ওয়াশিংটনে এ নিয়ে একটি সম্মেলন হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে আহ্বান জানিয়ে এটিকে ‘অসাধারণ সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

এই পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব এখনো সতর্ক অবস্থানে। মানবাধিকার সংগঠন ইউরো-মেডিটেরানিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রামি আবদু একে ফিলিস্তিনিদের স্বকীয়তা মুছে ফেলার নকশা বলে আখ্যা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এটি কুশনারের গাজা-কেন্দ্রিক প্রথম পরিকল্পনা নয়। ২০১৯ সালে বাহরাইনে আয়োজিত এক সম্মেলনেও তিনি গাজা ও পশ্চিম তীরকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার ধারণা তুলে ধরেছিলেন।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার প্রেক্ষাপটে, কুশনারের এই মাস্টারপ্ল্যান ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রশ্নও উঠছে—এই উন্নয়ন কার জন্য, আর কোন শর্তে? সূত্র: এবিসি নিউজ

বিভি/এমআর

মন্তব্য করুন: