বিশ্বজুড়ে সংঘাতের মাঝেও শান্তির বার্তা ছড়াচ্ছে ভারত: দ্রৌপদী মুর্মু
বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার মধ্যেও ভারত শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেন, সমগ্র মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে হলে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
ভাষণে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা, নারী ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভারতের সভ্যতাগত মূল্যবোধের আলোকে বিশ্বপরিসরে দেশের ভূমিকার কথাও ব্যাখ্যা করেন। খবর দ্য হিন্দু।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শান্তির প্রতি ভারতের অঙ্গীকার তার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীরে প্রোথিত। তিনি বলেন, “আমাদের ঐতিহ্যে সমগ্র বিশ্বের শান্তির জন্য প্রার্থনার রীতি রয়েছে। বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হলে মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকতে পারে না।” বর্তমান বিশ্বে বহু অঞ্চলে সংঘাত চললেও ভারত শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত বছর সন্ত্রাসী অবকাঠামোর বিরুদ্ধে নির্ভুল হামলার মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে একাধিক সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করা হয় এবং বহু সন্ত্রাসী নিহত হয়। ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা এই অভিযানের ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে দ্রৌপদী মুর্মু জানান, তিনি সিয়াচেন বেস ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন, সুখোই ও রাফাল যুদ্ধবিমানে উড্ডয়ন করেছেন এবং সাবমেরিন আইএনএস ভাগশীরেও সফর করেছেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর শক্তির ওপর দেশের জনগণের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এই সামরিক শক্তির কারণেই ভারত বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে শান্তির পক্ষে কথা বলতে পারে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ভারতের শান্তির বার্তা কেবল নৈতিক অবস্থানের ওপরই নয়, বরং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তির ভিত্তিতেও প্রতিষ্ঠিত। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলোর একটি এবং অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। এই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের অবস্থানকে আরও দৃঢ় ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: