• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যেভাবে ‘বিনা শুল্কে’ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাচ্ছে চীন (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১৫:০৯, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৬:১১, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই  চীনা পণ্যের ওপর উচ্চশুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুল্কের প্রাচীর তৈরি করে ট্রাম্প হয়তো ভেবেছিলেন তিনি চীনকে আটকে দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবতা একদমই আলাদা। শুল্কের পাহাড় ডিঙিয়ে বিশেষ কিছু কৌশলে বিনাবাধায় যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকছে বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্য।

ঠিক এক বছর আগে বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়। যেখানে চীন থেকে আসা প্রায় সব ধরণের আমদানির ওপর সরাসরি ৬০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সোলার প্যানেলের মতো কিছু কৌশলগত পণ্যের ক্ষেত্রে যা ১০০%-এ উন্নীত করা হয়। এর ফলে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানিতে চীনের অংশ ২২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়ায় মাত্র ৯ শতাংশে।  

তবে পরিসংখ্যান যাই বলুক, যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বাজারে পণ্য রপ্তানি ঠিকই চালু রেখেছে চীন। ৩১ জানুয়ারি এ বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদভিত্তিক মার্কিন ম্যাগাজিন দ্য ডিপ্লোম্যাট। যেখানে বলা হয় রিরুটিং ও লুপহোলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ চীনা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে।

শুল্ক এড়াতে 'কান্ট্রি অফ অরিজিন লন্ডারিং' করছে চীন। চীনা কোম্পানিগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে পণ্য না পাঠিয়ে এমন দেশে পাঠায় যে দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আছে। এক্ষেত্রে চীন বেঁছে নিয়েছে মেক্সিকো ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোকে। চীন তাদের পণ্য প্রথমে মেক্সিকোতে পাঠায়। সেখানে সামান্য রিব্র্যান্ডিং বা প্যাকেজিং বদলে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।

এছাড়া অনেক চীনা কোম্পানি ভিয়েতনামে তাদের ফ্যাক্টরি সরিয়ে নিয়েছে। এসব ফ্যাক্টরিতে কাঁচামাল চীন থেকে আসলেও ভিয়েতনামের পণ্য হিসেবে প্রস্তুত করা হয়। ফলে শুল্ক অনেক কমে যায়। তবে প্যাকেজিং পরিবর্তন করলেও সেমিকন্ডাক্টর—এর মতো কিছু পণ্যের ৮-সংখ্যার কোড একই থাকে। ফলে এই প্রক্তিয়া কতটুকু বৈধ সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

চীনের জন্য সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো ডি মিনিমিস লুপহোল। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কোনো পার্সেলে পণ্যের দাম যদি ৮০০ ডলারের কম হয়, তবে সেই পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক দিতে হয় না। এর মূল উদ্দেশ্য ছিলো ছোট ছোট পার্সেলের ওপর ট্যাক্স হিসাব করার প্রশাসনিক খরচ কমানো এবং ডেলিভারি দ্রুত করা। আর চীনা ই-কমার্স জায়ান্টগুলো এই আইনটিকে তাদের ব্যবসার মডেলে পরিণত করেছে। 

চীনা কোম্পানিগুলো বড় কন্টেইনারের বদলে অসংখ্য ছোট ছোট পার্সেলে পণ্য প্যাকেজ করে। এরপর সেগুলো সরাসরি গ্রাহকের ঠিকানায় পাঠায়। বর্তমানে প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০ লাখ এমন ছোট পার্সেল ঢোকে, যার অধিকাংশই চীন থেকে আসে। তবে নতুন নীতি অনুযায়ী ট্রাম্প প্রশাসন এই সুবিধা চীনের জন্য আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে অনেক চীনা কোম্পানি এখন মেক্সিকো বা ভিয়েতনামে বড় বড় গুদাম তৈরি করছে, যাতে সেখান থেকে পণ্য পাঠিয়ে শুল্ক কমানো যায়। 

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের শুল্কনীতির মূল লক্ষ্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো। তবে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপ সত্ত্বেও চীনা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো থেমে নেই। যা প্রমাণ করছে, বৈধ হোক বা অবৈধ— যুক্তরাষ্ট্র এখনো ব্যাপকভাবে চীনা পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। 

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন: