• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নিপাহ ভাইরাসের সঙ্গে ভারতে আরেক প্রাণঘাতী ভাইরাসের হানা, জরুরি সতর্কতা

প্রকাশিত: ২৩:১০, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২৩:১০, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
নিপাহ ভাইরাসের সঙ্গে ভারতে আরেক প্রাণঘাতী ভাইরাসের হানা, জরুরি সতর্কতা

ভারতের কেরালায় নিপাহ ভাইরাসের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই এবার নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে অত্যন্ত সংক্রামক বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা। প্রতিবেশী দেশটির বিহার রাজ্যে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর পুরো রাজ্যজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিহারের দারভাঙ্গা জেলার ভিগো এলাকায় হঠাৎ বিপুল সংখ্যক কাকের রহস্যজনক মৃত্যু হলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে মৃত পাখিদের দেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা ভোপালের একটি বিশেষ পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় সংক্রামক এইচ৫এন১ (H5N1) ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।

সংক্রমণ শনাক্তের পর দারভাঙ্গা পৌরসভা ও পশুপালন দপ্তরের বিশেষ মেডিকেল টিম জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে। আক্রান্ত এলাকার মৃত পাখিগুলো নিরাপদভাবে অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভাইরাসের বিস্তার রোধে আশপাশের পোলট্রি খামারগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। খামারের হাঁস-মুরগির রক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য সংক্রমণের সব উৎস বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বার্ড ফ্লু মূলত ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়, যার মধ্যে এইচ৫এন১ ধরনটি সবচেয়ে বিপজ্জনক। নিপা ভাইরাসের মতো এটিও প্রাণিজগত থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।

যদিও মানুষের মধ্যে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে বিরল, তবে সংক্রমিত পাখির সঙ্গে দীর্ঘসময় সংস্পর্শে এলে মানুষও আক্রান্ত হতে পারে। মানুষের ক্ষেত্রে এই রোগের লক্ষণ হিসেবে তীব্র জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও শরীরব্যথা দেখা দিতে পারে।

এদিকে বিহার রাজ্য সরকার সাধারণ জনগণের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। কোথাও মৃত বা অসুস্থ পাখি দেখা গেলে তা স্পর্শ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অস্বাভাবিক পাখির মৃত্যু নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে বলা হয়েছে। পোলট্রি খামার ও বাজার এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়েছে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: