বাংলাদেশের ভোট নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ বিদেশি পর্যবেক্ষকদের (ভিডিও)
প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের দিন বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় এখন বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হচ্ছে বাংলাদেশ।
চব্বিশ এর অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মুগ্ধ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। কয়েকশো বিদেশি প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোটকে 'শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ' বলে অভিহিত করেছে সংস্থাগুলো। শান্তিপূর্ণ ভোট ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণে এবারের নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক নতুন ‘বেঞ্চমার্ক’ হিসেবে দেখছেন বিদেশি পর্যবেক্ষকরা।
এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৬ লাখেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এবং ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী। নির্বাচনে ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছেন বিদেশি প্রতিনিধিরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলের প্রধান ও সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেভিড ড্রেয়ার নির্বাচনকে 'অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ভোটগ্রহণের কার্যক্রম সরজমিন পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম নানা আকুফো-আডো। এছাড়াও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ইতোমধ্যেই প্রকাশ করতে শুরু করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি রাতেই প্রাথমিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস। যেখানে এবারের নির্বাচনকে ঐতিহাসিক ও শান্তিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ঘানার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডোর নেতৃত্বে কমনওয়েলথ দল তাদের আগমণী বার্তা প্রকাশ করেছে। তারা মূলত বাংলাদেশের জনগণের সাথে 'সংহতি' প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচন পরবর্তী পরিবেশের ওপর নজর রাখছে। এছাড়া আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষণ মিশন।
নির্বাচনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূয়সী প্রশংসা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একদিকে তারুণ্যের অদম্য প্রত্যাশা, অন্যদিকে বিদেশি পরাশক্তিদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ—সব মিলিয়ে এই নির্বাচন ঢাকার সীমানা পেরিয়ে হয়ে উঠেছে বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।
বিভি/এমএফআর



মন্তব্য করুন: