যুদ্ধে পরাস্ত ৪ ইসরাইলি সেনা, হিজবুল্লাহর গুলিতে গেলো প্রাণ
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ-এর সঙ্গে সংঘাতে ৪ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন। সোমবারের ওই ঘটনায় আরও দুই সেনা আহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জানিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
আইডিএফের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিমাঞ্চলে নাহাল রিকনেসান্স ইউনিটের সদস্যরা হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের একটি দল শনাক্ত করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে খুব কাছ থেকে গুলিবিনিময় হয়। এতে কয়েকজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা আহত হন বলে দাবি করেছে আইডিএফ।
সেনাবাহিনী জানায়, আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার সময় হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা একটি ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে এতে নতুন করে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার জবাবে ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। এই ঘটনায় একজন সেনা গুরুতর এবং একজন রিজার্ভ সেনা মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন।
জানা যায়, দক্ষিণ লেবানন দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধ-এর পর থেকে এই সীমান্তে মাঝে মাঝেই গোলাগুলি, রকেট হামলা এবং সীমিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে।
বর্তমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর উত্তেজনার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যেখানে ইসরাইল-এর উত্তর সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাতের প্রভাবও এই সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হিজবুল্লাহ লেবাননের একটি শক্তিশালী সশস্ত্র ও রাজনৈতিক সংগঠন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অবস্থান বজায় রাখে। অন্যদিকে, ইসরাইল তাদের উত্তর সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে নিয়মিত নজরদারি ও সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার সংখ্যা বেড়েছে। রকেট নিক্ষেপ, ড্রোন ব্যবহার এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র টহল বৃদ্ধি— এসব কারণে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, এ ধরনের সংঘর্ষ যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় সীমান্ত সংঘাত যেকোনো সময় বড় আকার ধারণ করতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: