• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ইরানে ক্রীড়া হল ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা

এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আগে ব্যবহার করেনি যুক্তরাষ্ট্র!

প্রকাশিত: ১৭:৪১, ৩১ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৭:৪৩, ৩১ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আগে ব্যবহার করেনি যুক্তরাষ্ট্র!

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ ইরানে একটি ক্রীড়া হল ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আঘাত হেনেছে। এটি ছিল এমন একটি অস্ত্র, যা আগে কখনো যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি। এ তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

মিডলইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের লামার্দ শহরের ওই স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি “প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল” নামে পরিচিত ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুর ঠিক ওপরে বিস্ফোরিত হয়। এরপর ছোট ধাতব কণিকা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। যাচাই করা দুটি হামলার ভিডিওতেও একই ধরনের বিস্ফোরণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব আলামত ওই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হন।

জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, হামলার সময় ক্রীড়া হলটিতে একটি মেয়েদের ভলিবল দল অনুশীলন করছিল।

এর আগে ড্রপসাইট নিউজ জানায়, হামলার সময় সেখানে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তরুণীরা তখন প্রশিক্ষণে ব্যস্ত ছিল। তবে, হামলাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। লক্ষ্য নির্ধারণে ভুল বা প্রযুক্তিগত ত্রুটিও কারণ হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনলাইন মানচিত্রে স্থাপনাটি স্পষ্টভাবে বেসামরিক অবকাঠামো হিসেবে চিহ্নিত। একই দিনে মিনাব শহরের একটি মেয়েদের বিদ্যালয়ে আরেকটি হামলা হয়। সে হামলায় অন্তত ১৬৫ জন নিহত হন। নিহতদের বেশিরভাগই ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু।

পেন্টাগন জানায়, ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনার দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানও একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। প্রতিবেদনে এ দাবি সঠিক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পুরোনো স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ঘটনাস্থলের ছবিতে ক্রীড়া হলের মাঠজুড়ে অসংখ্য ছোট গর্ত দেখা গেছে। এগুলো বিস্ফোরণের সময় ছড়িয়ে পড়া ধাতব কণিকার প্রভাব বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ফেডারেশনের কর্মকর্তা মারিয়া মার্টিনেজ বলেন, হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৯০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ হাজার মানুষ। এই তথ্য ইরানের রেড ক্রিসেন্টের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত