কালো বলে স্বামীকে খুন!
ছবি: দেবকৃষ্ণ, তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ও প্রেমিক কমলেশ
স্বামীর গায়ের রং নিয়ে অসন্তুষ্ট, পরকীয়া সম্পর্ক এবং শেষ পর্যন্ত পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক মসলা ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেশটির মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার এক মসলা ব্যবসায়ী পুরোহিত দেবকৃষ্ণ (২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি প্রথমে ডাকাতির ঘটনা বলে দাবি করা হলেও পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন নিহতের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা (২৫) ও তার প্রেমিক কমলেশ পুরোহিত (৩২)।
ঘটনাটি ঘটে ৭ এপ্রিল রাতে। নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় দেবকৃষ্ণকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর প্রিয়াঙ্কা পুলিশকে জানান, একদল ডাকাত ঘরে ঢুকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মালপত্র লুট করে এবং বাধা দেওয়ায় তার স্বামীকে হত্যা করেছে। এমনকি নিজেকে নির্দোষ দেখাতে তিনি দাবি করেন, ডাকাতরা তাকে বেঁধে জিম্মি করে রেখেছিল।
তবে তদন্ত শুরু হতেই প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়ে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই দম্পতির মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। দেবকৃষ্ণের বোন জ্যোতির অভিযোগ, প্রিয়াঙ্কা প্রায়ই স্বামীকে গায়ের রং নিয়ে অপমান করতেন। তিনি নাকি বলতেন, ‘তুমি কালো, তুমি আমার যোগ্য নও।’
পুলিশের তদন্তে আরও জানা যায়, রাজগড় এলাকার বাসিন্দা কমলেশ পুরোহিতের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ রয়েছে, দুজনে মিলে দেবকৃষ্ণকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পুলিশ জানায়, কমলেশ তার সহযোগী সুরেন্দ্র ভাটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে নিয়োগ দেন এবং অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। হত্যার রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘরের দরজা খোলা রাখা হয়। পরে সুরেন্দ্র ঘরে ঢুকে দেবকৃষ্ণকে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে সাজাতে ঘরের ভেতর তছনছ করা হয় এবং অলংকার চুরির নাটক সাজানো হয়।
কিন্তু তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ঘরের ভেতর থেকেই সেই অলংকার উদ্ধার করে, যা প্রিয়াঙ্কা চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। পাশাপাশি মোবাইল কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘটনার সময় প্রিয়াঙ্কা ও কমলেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে প্রিয়াঙ্কা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় প্রিয়াঙ্কা ও কমলেশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ভাড়াটে খুনি সুরেন্দ্র ভাটি এখনও পলাতক। নিহত দেবকৃষ্ণের মা খেঞ্চি বাই এই ঘটনার জন্য অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি তথা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। সূত্র: এনডিটিভি
বিভি/এমআর



মন্তব্য করুন: