বৈধ ভিসা থাকলেও ভারতে প্রবেশের নিশ্চয়তা নেই!
বৈধ ভিসা থাকলেও কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের স্বাভাবিক বা আইনগতভাবে নিশ্চিত অধিকার নেই বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, ভিসা থাকা ভারতে প্রবেশের নিঃশর্ত অনুমতি হিসেবে বিবেচিত হয় না।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অমিত মহাজন এ পর্যবেক্ষণ দেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
আদালত বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক, জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কোনো বিদেশি নাগরিককে ভারতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিচারপতি মহাজন আরও বলেন, ভিসা প্রদান, ভারতে প্রবেশের অনুমতি এবং অভিবাসন ছাড়পত্র দেওয়া রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অংশ। এসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রশাসনিক বিবেচনাও গুরুত্বপূর্ণ।
তুর্কমেনিস্তানের এক নারীর করা মামলার শুনানিতে এসব পর্যবেক্ষণ আসে। ওই নারী অভিযোগ করেন, গত ২৫ মার্চ বৈধ পাসপোর্ট ও ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে তাকে তুর্কমেনিস্তানে ফিরে যেতে হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা স্বামীকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
এরপর ভারতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো এবং বৈধ ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।
আদালতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বৈধ ভিসা থাকলেই কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের নিশ্চিত বা অখণ্ডনীয় অধিকার তৈরি হয় না। ভিসা প্রদান ও দেশে প্রবেশের অনুমতি—দুটি পৃথক বিষয়। ভারতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত অভিবাসন আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার আওতাধীন।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ওই নারীর বিষয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য পাওয়ার পর অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওই নারী ৪৭ বার ভারতে এসেছিলেন। বেশির ভাগ সফরের মেয়াদ ছিল এক থেকে তিন দিন। এসব সফরে তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা—দুই ধরনের ভিসা ব্যবহার করেছিলেন।
আদালতে উপস্থাপিত নথি পর্যালোচনা করে বিচারপতি মহাজন তার বাবা-মা ও স্বামীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যে অসামঞ্জস্যের কথাও উল্লেখ করেন। ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভারতে আসার কথা বলা হলেও তার কাছে কোনো ব্যবসায়িক পরিচয়পত্র বা আমন্ত্রণপত্র ছিল না। নিজ দেশের ব্যবসা সম্পর্কেও তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি।
এ ছাড়া ব্যবসায়িক ভিসা নেওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজেকে ‘গৃহিণী’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উঠে আসে।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত ওই নারীর আবেদন খারিজ করে দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মামলার পরিস্থিতি ও উপস্থাপিত নথি বিবেচনায় ভারতে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের স্বাভাবিক বা আইনগতভাবে নিশ্চিত অধিকার নেই।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: