• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

লেখায় নতুন ধরন, সাহিত্যে নোবেল পেলেন অ্যান কার্সন

প্রকাশিত: ১৭:৩৭, ৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৭:৪০, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
লেখায় নতুন ধরন, সাহিত্যে নোবেল পেলেন অ্যান কার্সন

২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন। সাহিত্যে সাহসী ও প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।

অ্যান কার্সন ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে ক্লাসিকস বিষয়ে ‘ওদি এত আমো এরগো সুম’ নামে ডক্টরাল থিসিস প্রকাশ করেন তিনি। ল্যাটিন এই বাক্যাংশটির শাব্দিক অর্থ- ‘আমি ঘৃণা করি এবং আমি ভালোবাসি, সুতরাং আমি আছি’।

কবিতা লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বই অনুবাদ করেছেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন কার্সন। তার অধিকাংশ সাহিত্যকর্মে ভাষা ও শব্দের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেয়েছে। নতুন অর্থ ও ভাবনা তৈরির জন্য শব্দের উৎস ও ব্যুৎপত্তি নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন তিনি। তার অনেক লেখার শুরুই হয়েছে শব্দের ব্যুৎপত্তি থেকে।

পুরো সাহিত্যজীবনে লেখার নতুন নতুন ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন অ্যান কার্সন। প্রচলিত সাহিত্যিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে লেখার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। এর একটি উদাহরণ ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’। বইটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা ২২টি ছোট রচনা রয়েছে, যেগুলো যেকোনো ক্রমে পড়া যায়।

দৃশ্যশিল্পী, নৃত্য পরিচালক, অপেরা ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গেও যৌথভাবে কাজ করেছেন কার্সন। এসব কাজ তার ভিন্নধর্মী চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিচয় বহন করে। ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনে তার কাজ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মা’ বইতেও কার্সনের বৈচিত্র্যময় লেখার ধরন দেখা যায়। বইটিতে বিভিন্ন ধরনের রচনা রয়েছে এবং এতে অভিনয় ও মঞ্চ পরিবেশনার উপাদানও রয়েছে। একই সঙ্গে সাহিত্য, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রের নানা বিষয় তুলে ধরেছেন তিনি।

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য থেকে করা তার অনুবাদগুলোও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার বিভিন্ন খণ্ডাংশ নিয়ে কাজ এবং ২০০২ সালে প্রকাশিত ‘ইফ নট, উইন্টার’ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিসের ‘ইলেক্ট্রা’ ও ‘অ্যান্টিগোন’ এবং ইউরিপিডিসের ‘বাক্কাই’ নাটকও অনুবাদ করেছেন তিনি। এসব অনুবাদ যথাক্রমে ২০০১ ও ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়।

১৯৯০-এর দশকে অ্যান কার্সন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করেন। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’ কাব্যগ্রন্থের ‘দ্য গ্লাস এসে’ উল্লেখযোগ্য। এই দীর্ঘ কবিতায় কবিতা, প্রবন্ধসহ বিভিন্ন সাহিত্যধারার মিশেল দেখা যায়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ কবিতার একটি নতুন ধরনের রূপ তুলে ধরেন কার্সন, যেখানে বিভিন্ন সাহিত্যধারার সীমারেখা স্পষ্ট থাকে না।

১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড: আ নভেল ইন ভার্স’ তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম। বইটিতে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে আধুনিক জীবন ও ভাষার সঙ্গে মিলিয়েছেন কার্সন। এর মূল চরিত্র গেরিয়ন—ডানাওয়ালা এক লাল দানব।

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর গ্রিক কবি স্টেসিখোরোসের গেরিয়নকে নিয়ে লেখা একটি কবিতার খণ্ডাংশ থেকেই কার্সন বইটির ভাবনা নিয়েছেন। প্রাচীন এই গল্পকে আধুনিক ভাষা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে তিনি তৈরি করেছেন ভিন্নধর্মী এক সাহিত্যিক রূপ।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত