• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

মণিপুরে সহিংসতায় নিহত ৯, পুড়িয়ে দেওয়া হলো ১৪টি বাড়ি

প্রকাশিত: ০৯:১৬, ১১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ০৯:২৫, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মণিপুরে সহিংসতায় নিহত ৯, পুড়িয়ে দেওয়া হলো ১৪টি বাড়ি

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরের পার্বত্য জেলাগুলোতে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার রাত থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের প্রায় ১৪টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং। রাজ্যে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার রাতে কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে সহিংসতার সূত্রপাত হয়। সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কথিত গোলাগুলির ঘটনায় ডমখোনেই তৌথাং (৪২) নামের এক কুকি নারী নিহত হন।

পুলিশ জানায়, চাসাদ গ্রামে কথিত অবৈধ বাংকার উচ্ছেদ করতে মণিপুর পুলিশ, ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন (আইআরবি) ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের নিয়ে একটি যৌথ দল অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয় নারীরা অভিযান ব্যাহত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে পাল্টা জবাব দেয় বাহিনীর সদস্যরা।

ওই রাতেই পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে আবারও গোলাগুলি হয়। এতে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের প্রায় ১৪টি বাড়ি পুড়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, চাসাদ গ্রামের স্বেচ্ছাসেবকদের কথিত নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটকের প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিক্ষোভ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। কুকি উইমেন ইউনিয়নের দাবি, চাসাদে মাইকেল এনগামমিনলেন হাওকিপ (২৩) নামের এক তরুণও গুলিতে নিহত হয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সংগঠনটি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শনিবার সকালে চাসাদ থানায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা। ভোর ৫টার দিকে আবারও গোলাগুলি শুরু হয়, যা সকাল ৭টা পর্যন্ত চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কামজং জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট থানার চারপাশের ৪০০ মিটার এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

কামজং জেলার আরেক ঘটনায় শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চাসাদ থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নিংচৌ চিংডং গ্রামে দুই নাগা গ্রামরক্ষী নিহত হন। তাদের নাম এনগাচানসো নিংশেন (৩০) ও লেইশিশান হুংইয়ো (৫০)। তারা নিংচৌ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সরকারি সূত্রের ধারণা, সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

এর আগে শনিবার ভোর ৫টার দিকে মাকুই গ্রামে হামলায় আরও তিন নাগা গ্রামরক্ষী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ হামলার জন্য একটি কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন মাচুংগাম্মামগ, আজিনপৌ রিংকাংমাই ও রবার্ট।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নিহত ব্যক্তিদের একজন আজিনপৌ রিংকাংমাইয়ের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। তবে গোলাগুলি চলতে থাকায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে কাংপোকপি জেলার তাপোন গ্রামে সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গিদের অতর্কিত হামলায় এক নাগা গ্রামস্বেচ্ছাসেবক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। ইম্ফল-তামেংলং সড়কে মাকুই গ্রামের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম মাচুংওয়াংবৌ (৩৫)। তিনি থালোন গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আহত নাহাসন (২৯) ও মাথাংগাম্বৌকে (৩০) চিকিৎসার জন্য সেনাপতি জেলার সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। সেখানে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গোলাগুলি চলে।

এ ছাড়া উখরুল জেলায় জাতীয় মহাসড়ক ২০২-এর কনজাং গ্রামের কাছে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অতর্কিত হামলায় সন্দীপ রাই (৩০) নামের এক গাড়িযাত্রী নিহত হন। তিনি সেনাপতি জেলার তাফৌ সেনাপতি নেপালি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ জানায়, গাড়িতে করে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র হামলাকারীরা তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ হামলার কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

এদিকে, নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের পরিস্থিতি এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং।

তিনি জানান, ইম্ফল-ডিমাপুর-গুয়াহাটি রুটে বাস চলাচল আবার শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় মহাসড়ক ৩৭ (ইম্ফল-শিলচর) ও ২ নম্বর মহাসড়ক (ইম্ফল-ডিমাপুর) দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলও শুরু হয়েছে।

এ ছাড়া ইম্ফলের আঞ্চলিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটকে (রিমস) সর্বভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট বা এআইআইএমএসের মর্যাদায় উন্নীত করার অনুরোধ জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রচেষ্টার কথা স্বীকার করে মোদি সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

তবে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনা এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের পর রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: