সংকুচিত হবে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতি, শঙ্কা আইএমএফের
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতি সংকুচিত হবে। এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, কুয়েত, ইরাক ও কাতারের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি সংকুচিত হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত আইএমএফের সর্বশেষ অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ০.৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। অথচ গত এপ্রিলে সংস্থাটি এ অঞ্চলে ১.৯ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী নৌপরিবহন বিঘ্নকে অর্থনৈতিক পূর্বাভাস পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে আইএমএফ। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কুয়েতের অর্থনীতি ১৬.৭ শতাংশ, ইরাকের ১৬ শতাংশ এবং কাতারের ১৫.৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। এ ছাড়া বাহরাইনের জিডিপি ১১.৩ শতাংশ এবং ইরানের অর্থনীতি ৭.৬ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে।
সৌদি আরবের অর্থনীতিও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখে পড়তে পারে। দেশটির জিডিপি ৩.৩ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে রফতানি বাড়িয়ে জ্বালানি খাতে ক্ষতির কিছুটা প্রভাব সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে দেশটি।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কিরগিজস্তানের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি সম্প্রসারিত হতে পারে। দেশটির জিডিপি ৯ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়াই একমাত্র অঞ্চল হতে যাচ্ছে, যেখানে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হতে পারে। বিপরীতে, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল এশিয়ার অর্থনীতি ৫.১ শতাংশ, সাব-সাহারান আফ্রিকার ৪.৫ শতাংশ এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ২.৩ শতাংশ বাড়তে পারে।
বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ২.৩ ও ৪.৫ শতাংশ হতে পারে। ইউরোজোনের অর্থনীতি বাড়তে পারে ১.১ শতাংশ। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি ৩.১ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। এর আগে সংস্থাটি ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।
তবে বৈশ্বিক অর্থনীতির সামনে বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রয়েছে সংঘাতের আরও বিস্তার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিনিয়োগ ও প্রত্যাশার পুনর্মূল্যায়ন, নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা এবং সরকারি অর্থব্যবস্থার দুর্বলতা।
অন্যদিকে, এআই খাতে বিনিয়োগের গতি বাড়া, উৎপাদনশীলতার উন্নতি এবং ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ীভাবে কমে এলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ।
সূত্র: আলজাজিরা
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: