বিজেপির করা মানহানির মামলা থেকে খালাস পেলেন রাহুল গান্ধী
ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস
ভারতের উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুরের একটি বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালত ২০১৮ সালে করা মানহানির মামলায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে খালাস দিয়েছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে করা মামলায় এ রায় দেন আদালত।
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও রায়বেরেলির সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী রায় ঘোষণার সময় আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত দেওয়ানি বিচারক শুভম ভার্মার আদালত এ রায় দেন। রাহুলের আইনজীবী কাশী প্রসাদ শুক্লা তার খালাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার সকালে লক্ষ্ণৌ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর রাহুল সড়কপথে সুলতানপুরে যান। আদালত প্রাঙ্গণে এ সময় নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।
মামলাটি ২০১৮ সালের ৮ মে-র একটি রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে। ওই সময় কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেঙ্গালুরুতে এক সমাবেশে অমিত শাহকে ‘হত্যা মামলার অভিযুক্ত’ বলে উল্লেখ করেছিলেন রাহুল গান্ধী- এমন অভিযোগ আনা হয়। তখন অমিত শাহ বিজেপির সভাপতি ছিলেন।
এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট রাহুলের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন বিজেপির তৎকালীন জেলা সহসভাপতি ও সুলতানপুর জেলা সমবায় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বিজয় মিশ্র।
২০২৩ সালের ২৭ নভেম্বর আদালত রাহুল গান্ধীকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন পান।
বিচার চলাকালে অভিযোগকারী বিজয় মিশ্রসহ তিনজন সাক্ষীর বক্তব্য রেকর্ড করেন আদালত। অন্য দুই সাক্ষী ছিলেন অনিল মিশ্র ও রামচন্দ্র দুবে।
বেঙ্গালুরুর সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যের রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে রাহুলের কণ্ঠস্বর মিলিয়ে দেখার আবেদনও করেছিলেন অভিযোগকারী বিজয় মিশ্র। তবে নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করেন। পরে দায়রা আদালতও ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এরপর এলাহাবাদ হাইকোর্টে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আবেদনও খারিজ হয়ে যায়।
গত ১২ অক্টোবর মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এরপর ২৬ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত। সোমবার সেই রায়েই রাহুল গান্ধীকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।
রায়ের পর উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস স্বাগত জানিয়ে হিন্দিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, অমিত শাহকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে করা মানহানির মামলায় আদালত রাহুল গান্ধীকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: