• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

গির্জায় হামলার জেরে সিরিয়ায় জর্ডানের বিমান হামলা, নিহত ৭

প্রকাশিত: ১১:২৯, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
গির্জায় হামলার জেরে সিরিয়ায় জর্ডানের বিমান হামলা, নিহত ৭

গির্জায় প্রাণঘাতী হামলার প্রতিশোধ নিতে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডান। সিরীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সোমবারের (২৬ অক্টোবর) এ হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও এক নারী রয়েছেন। হামলার পর জর্ডানের সঙ্গে দেশের প্রধান সীমান্ত পারাপার পথ বন্ধ করে দিয়েছে সিরিয়া।

জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত শুক্রবার দেশটির কারাক গভর্নরেটে একটি গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলার জবাবে সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ওই হামলায় অন্তত নয়জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন।

জর্ডানের সামরিক বাহিনীর দাবি, সিরীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। এতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অনেক সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন এবং তাদের বেশ কয়েকটি যানবাহন ধ্বংস হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

তবে জর্ডানের সঙ্গে হামলার বিষয়ে কোনো সমন্বয়ের কথা অস্বীকার করেছে সিরিয়া। দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আগাম সমন্বয় বা অবহিতকরণ ছাড়াই’ সামরিক অভিযানটি চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সিরীয় কর্তৃপক্ষ।

সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় দারা ও সুওয়াইদা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকায় অন্তত চারটি স্থানে হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় নিহত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাদের মধ্যে তিন পুরুষ, এক নারী ও তিন শিশু রয়েছেন।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দারা প্রদেশের আল-তাই গ্রামের একটি তাঁবুতে হামলায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হন। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ, একজন নারী ও তিন শিশু রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই পরিবারের আরও তিন সদস্য আহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।

দারা প্রদেশের আল-শাইয়াহ এলাকায় চালানো দ্বিতীয় হামলায় ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। একই প্রদেশের আইন আল-বাসাল এলাকার মুজাইরিব শহরে একটি আবাসিক ভবনে তৃতীয় হামলা চালানো হলেও সেখানে কেউ হতাহত হননি।

চতুর্থ হামলাটি চালানো হয় সুওয়াইদা প্রদেশের শাহবা শহরের একটি আবাসিক ভবনে। এতে ৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন।

বিমান হামলার পর সিরিয়ার সীমান্ত কর্তৃপক্ষ নাসিব সীমান্ত পারাপার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উভয়মুখী যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন স্থগিত রয়েছে। নাসিবই জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে যাত্রী এবং বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের একমাত্র সীমান্তপথ।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। আলজাজিরাকে তিনি জানান, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে এ ঘটনার পরিণতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে মন্ত্রণালয়।

এদিকে, সোমবারই জর্ডানের নিরাপত্তা বাহিনী গির্জায় হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে দুই ভাই ও তাদের ভগ্নিপতিকে গ্রেফতার করেছে। দেশটির আল-জাদিদা গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির পর তাদের আটক করা হয়।

জর্ডান সরকারের একটি সূত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছে, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা গুরুতর আহত হয়েছেন।

গির্জায় হামলার পর জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। শুক্রবার রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে কারাকের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর তিন বন্দুকধারী গুলি চালায়। এতে অন্তত নয়জন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন।

বাদশাহ আবদুল্লাহ হামলার জন্য দায়ীদের ‘সবচেয়ে কঠোর শাস্তি’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।

জর্ডানের ১ কোটি ১৫ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। কারাক এলাকায় এই সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত