হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হচ্ছেন র্যাপ তারকা নিকি মিনাজ?
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন পপচার্টে একচ্ছত্র রাজত্ব করে আসছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নিকি মিনাজ। জমকালো পারফর্ম্যান্সে বিমোহিত করে জায়গা করে নিয়েছেন কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে। বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন র্যাপ কুইন হিসেবে। তবে এই র্যাপ তারকাকে ঘিরে এবার ছড়িয়েছে ভিন্ন এক জল্পনা। র্যাপের মঞ্চ থেকে এবার হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং কক্ষে পা রাখতে পারেন তিনি। হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তার মন্তব্য থেকেই শুরু হয়েছে এ আলোচনা।
গুঞ্জনের সূত্রপাত হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিউংয়ের একটি পোস্ট থেকে। ২৫ অক্টোবর তিনি সামাজিকমাধ্যম এক্সে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি প্লেন এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা মিনাজের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওটি শেয়ার করে চিউং লেখেন, ‘ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, আমার মনে হয়, আমরা হয়তো হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারিকে খুঁজে পেয়েছি।’ ভিডিওতে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করতে শোনা যায় এ র্যাপ তারকাকে।
'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এ চড়ে ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে নিকি মিনাজের যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক প্রচারণামূলক র্যালিতে অংশগ্রহণ। মিশিগানের পোর্ট হারনে এই র্যালিতে ট্রাম্পের সাথে একই মঞ্চে হাজির হন নিকি মিনাজ। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি জনতাকে ট্রাম্পের সমর্থনে স্লোগান দিতে উৎসাহিত করেন। মিনাজ ঘোষণা দেন, ট্রাম্প আবার নির্বাচনে দাঁড়ালে তিনি ট্রাম্পকে পূর্ণ সমর্থন দিবেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রকাশ্যে নিকি মিনাজের বুদ্ধিমত্তা ও সৌন্দর্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। মিনাজের শারীরিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প কিছুটা অনফিল্টার্ড মন্তব্য করে বসেন, যা নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে নিকি মিনাজের সম্পর্কের রসায়ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এখন বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুজনের মধ্যকার বন্ধুত্ব দিন দিন গাঢ় হচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি পদে মিনাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে, এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। ফলে, আপাতত বিষয়টি আলোচনা ও রসিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে নিকি মিনাজের ভোটাধিকার আছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে। এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ট্রিনিদাদ ও টোবাগোতে জন্ম নেওয়া নিকি মিনাজ শৈশবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন এবং নিউ ইয়র্কে বেড়ে ওঠেন। বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা ও বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা সত্ত্বেও তিনি আইনগতভাবে আমেরিকার পূর্ণ নাগরিকত্ব পাননি।
এর আগে মার্কিন প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কেটি জাকারিয়া বিতর্ক ও আইনি জটিলতার কারণে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় পদত্যাগ করেন। ফলে গত ১৬ অক্টোবর থেকে এই পদটি ফাঁকা রয়েছে। নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং ও মিডিয়া যোগাযোগ সচল রাখতে মার্কিন প্রশাসন দ্রুতই স্থায়ী কাউকে নিয়োগ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, ইউএসএ টুডে
বিভি/এমএফআর













মন্তব্য করুন: