ফ্রান্সে নতুন আইন: বিক্ষোভে ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সহিংসতাকারীদের
ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটালে তার ক্ষতিপূরণ বিক্ষোভকারীদেরই দিতে হবে—এমন বিধান রেখে একটি বিল পাস করেছে দেশটির সিনেট। ‘দাঙ্গাকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’ নামে পরিচিত বিলটি মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ২২৯-১০৫ ভোটে পাস হয়। এতে সহিংস বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সরাসরি ভাঙচুরে জড়িত না থাকলেও ক্ষয়ক্ষতির দায় যৌথভাবে বহন করতে হতে পারে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সম্প্রচারমাধ্যম পাবলিক সিনেট এ তথ্য জানিয়েছে।
বিলটির লক্ষ্য হলো, জনসমাগমস্থলে সহিংসতা ও ভাঙচুরের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের কাছ থেকে সেই অর্থ আদায় করা। এ বিধানের আওতায় রাষ্ট্র প্রত্যেক ব্যক্তির কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো (প্রায় ১১ হাজার মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে।
প্রাথমিকভাবে প্যারিস সাঁ-জারমাঁর (পিএসজি) চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর মে মাসে সংঘটিত সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বিলটি উত্থাপন করা হয়েছিল। পরে ১৭ অক্টোবর বিভিন্ন বিক্ষোভে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর এর পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়।
সিনেটের ডানপন্থি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে বিলটি ব্যাপক সমর্থন পেলেও বামপন্থিরা এর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, বিলটি সমাবেশের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অপরাধ অনুযায়ী ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণের মতো সংবিধান-সুরক্ষিত নীতিগুলোকে দুর্বল করতে পারে। বিলে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে পারিবারিক ভাতা, আবাসন সহায়তা এবং ফ্রান্সের ন্যূনতম আয়ভিত্তিক ভাতার একটি অংশ জব্দ করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
সিনেট একটি সংশোধনীও অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে গুরুতর জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে- এমন অনলাইন কনটেন্ট সরিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে অনুরোধ করতে পারবে। বিশেষ করে সহিংসতা, ভাঙচুর কিংবা বিদ্রোহে উসকানি দেয় এমন কনটেন্ট এর আওতায় আসবে।
বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট অপসারণের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে। নির্দেশনা না মানলে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্লক করা বা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া বিক্ষোভে অংশগ্রহণে নতুন প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা, বিদেশি নাগরিকদের ফ্রান্সে প্রবেশ বা অবস্থানের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ, কঠোরতর সাজা, বিচারিক কাজে ড্রোনের বিস্তৃত ব্যবহার এবং অ্যালগরিদমনির্ভর ভিডিও নজরদারির অনুমোদন দিয়েছে সিনেট। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের সামাজিক আবাসন থেকেও উচ্ছেদের বিধান রাখা হয়েছে।
সিনেটে পাস হওয়া বিলটি এখন দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে পর্যালোচনা করা হবে। সেখানে রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে বিলটির চূড়ান্ত অনুমোদন জটিল হতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: