• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

৩ বছর পর সুদের হার বাড়ালো কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত: ০০:০৬, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
৩ বছর পর সুদের হার বাড়ালো কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি: রয়টার্স

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় তিন বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো নীতিসুদ বাড়িয়েছে ব্যাংক অব কানাডা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ২.৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।

ব্যাংক অব কানাডার নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে দেশটির মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.১ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। গত জুলাইয়ে এ হার ২ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, চলতি বছরে কানাডার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা জুলাইয়ের পূর্বাভাসে ছিল ০.৭ শতাংশ।

ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর টিফ ম্যাকলেম বলেন, মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং অর্থনীতিও প্রত্যাশার তুলনায় স্থিতিশীল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির উচ্চমূল্য যেন অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামেও ছড়িয়ে পড়ে এবং সার্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়, সেই ঝুঁকি কমাতে সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে নীতিসুদ আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কানাডায় সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৩.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ১ থেকে ৩ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ জ্বালানি ও জ্বালানিসংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি।

ম্যাকলেমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষে মূল্যস্ফীতি ৩.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৭ সালের বেশির ভাগ সময় তা প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে। এরপর ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে মূল্যস্ফীতি আবার ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি নেমে আসতে পারে। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্য ও সেবার দাম বাড়াতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক বিরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত মিটে যাওয়ার সম্ভাবনাসহ বেশ কিছু অনিশ্চয়তা এখনো রয়েছে।

সিআইবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু গ্রান্থাম মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি যতটা বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে, বাস্তবে তা ততটা নাও বাড়তে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কিছুটা কমলে মূল মূল্যস্ফীতির গতি সীমিত থাকতে পারে। তার ধারণা, নীতিসুদ ২.৭৫ শতাংশের ওপরে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

অন্যদিকে, আর্থিক বাজারের পূর্বাভাসে আগামী জানুয়ারিতে আরও ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখা হচ্ছে। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নীতিসুদ ৩.২৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সুদের হার বাড়ানোর বিরোধিতাকারী অর্থনীতিবিদদের যুক্তি, খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থিতিশীল দামের উপাদান বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতি এখনো প্রায় ২ শতাংশে রয়েছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং দুর্বল শ্রমবাজারের কারণে কানাডার অর্থনীতি যখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন সুদের হার বাড়ালে সেই পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ব্যাংক অব কানাডার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে কানাডার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিতে পারে। তবে ভোক্তাদের ব্যয় অব্যাহত থাকা, রফতানি বাড়া এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ শক্তিশালী হওয়ার ফলে ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি আবার বাড়তে পারে বলে আশা করছেন গভর্নর ম্যাকলেম।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডার অর্থনীতি বার্ষিক হিসাবে ৩.৩ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কমে ২ শতাংশ এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ০.৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

এদিকে, ২০২৭ ও ২০২৮ সালের জন্য মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। এর আগে দুই বছরের জন্যই প্রবৃদ্ধি ১.৮ শতাংশ হবে বলে ধারণা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ম্যাকলেমের মতে, অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির অব্যবহৃত সক্ষমতা কাজে লাগাতে সহায়তা করবে।

ব্যাংক অব কানাডার পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর।

সূত্র: আলজাজিরা

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত