• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

প্রকাশিত: ১৮:১৮, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৮:১৯, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিনই ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন—এমন আশঙ্কায় উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। আগামী ৪ নভেম্বর থেকেই স্বল্পস্থায়ী কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাউ। তবে নতুন হামলা হলে তার জবাব হবে ভয়াবহ—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানও। 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, এখন আর কোনো রেড লাইন নেই; ইরানের জনগণের ক্ষতি করার সাহস দেখালে কঠোর আঘাত হানবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। একদিকে যুদ্ধের নতুন শঙ্কা, অন্যদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ। তাহলে কি আবারও সংঘাতের পথে হাঁটছে দুই দেশ, নাকি শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছাবে ওয়াশিংটন ও তেহরান?

ইরানে আবারো হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাউ জানিয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন, ৪ নভেম্বর থেকেই ইরানে নতুন দফায় হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন।এ বিষয়ে উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনজন জ্যেষ্ঠ আরব কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলা হতে পারে স্বল্পস্থায়ী, তবে তীব্র। এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ওয়াশিংটনকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। এমনকি নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর অনুমতি দিতেও কিছু দেশ আপত্তি জানাতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি হোয়াইট হাউস। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি, নাকি ইরানকে আলোচনার টেবিলে চাপ দিতে চেষ্টা আমেরিকার? আবারো ইরানে হামলা হলে কি জবাব দিবে তেহরান?

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের পক্ষে আবারও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডার ডেটোনা বিচে নির্বাচনী সমাবেশে তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। যুদ্ধ শুরুর দায়ও ইরানের ওপর চাপান ট্রাম্প। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, সাত মাস আগের তুলনায় এখন এই প্রণালি দিয়ে বেশি তেল সরবরাহ হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, "আমরা ইরানের হাত থেকে পারমাণবিক হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছি। ইরান কোনোদিনই পরমাণু অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না। তাদের একটি চমৎকার নৌবাহিনী ছিল। আমরা তাদের সব জাহাজ আর পুরো নৌবাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন হরমুজ দিয়ে আরো বেশি তেল পরিবহন করা হচ্ছে।"

আমেরিকা ইরানে নতুন করে হামলা চালালে কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, এখন আর কোনো রেড লাইন বা সীমারেখার বিষয় নেই। ইরানের জনগণের ক্ষতি করার সাহস দেখালে তার জবাব হবে পুরো পৃথিবী কাঁপানো, যা কল্পনাও করতে পারবে না আমেরিকা। আরাগচির বক্তব্য, ইরানের জনগণের ওপর হামলা হলে দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী এমন আঘাত হানবে, যার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি এক বার্তায় যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে অবিলম্বে এবং পুরো অঞ্চলে সীমাহীন জবাব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী- আইআরজিসির কমান্ডারদের।

তবে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতাও থেমে নেই। বরং নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কাতারের রাজধানী দোহায়। কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আল-জাদিদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের সরাসরি আলোচনায় বসার প্রস্তুতিও চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ইরানকে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতার চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য চুক্তির নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে চীন ও রাশিয়াকেও যোগ করার কথা রয়েছে।

ইরান-আমেরিকা হুমকি পাল্টা হুমকির মধ্যেই আরো নাজুক হয়েছে সৌদি আরব ও ইরান সমর্থিত হুথিদের মধ্যে যুদ্ধ। দেশটির রাজধানী রিয়াদ অঞ্চলে হুথিদের ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। এছাড়া, ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে হুথি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের। হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘন্টায় ৯৩টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি জোট। ইয়েমেনের হুথিদের নতুন করে হামলা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে রিয়াদ। বাহরাইনে ২২তম আইআইএসএস মানামা ডায়ালগে সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খুরেইজি বলেছেন, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে দেশটির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যও। ব্রিটিশ মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে ব্রিটেন। তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে লন্ডন।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: