• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

হ্যালোইন উৎসবে তুমুল বিক্ষোভের শঙ্কা, সতর্ক জার্মানি-ফ্রান্স

প্রকাশিত: ১৯:১২, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
হ্যালোইন উৎসবে তুমুল বিক্ষোভের শঙ্কা, সতর্ক জার্মানি-ফ্রান্স

হ্যালোইন উৎসবের সপ্তাহান্তে সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জার্মানি ও ফ্রান্স। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে দুই দেশেই বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

জার্মানিতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রায় ৩০টি শহরে বিক্ষোভের জন্য নিবন্ধন করেছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ। বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও কোলোনের মতো বড় শহরেও কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশজুড়ে অতিরিক্ত কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্ভাব্য ভাঙচুর ও সহিংসতা এড়াতে কিছু অভিজাত গয়নার দোকান ও পোশাকের বিপণিবিতানের জানালা তক্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

জার্মানিতে ‘জেনজি রেগেল্ট!’ নামে একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। জার্মান ভাষার এ নামের অর্থ ‘জেন-জি সামলে নেবে’। জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, বিদ্যালয়গুলোর দুরবস্থা, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং তরুণ প্রজন্মের মতামত উপেক্ষা করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ—এসব বিষয় বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে।

এদিকে টানা তিন সপ্তাহের বিক্ষোভের পর আবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে ফ্রান্স। শুক্রবার থেকেই প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জানালা সুরক্ষিত করার কাজ শুরু হয়েছে।

সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। প্যারিসের ৪০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিক্ষোভে মুখঢাকা মাস্ক ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, সপ্তাহান্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি অনেক বেশি।

দুই সপ্তাহ আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ভাঙচুর ও সহিংসতায় রূপ নেয়। এরপর সহিংস বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নেয় দেশটির প্রশাসন। তবে গত সপ্তাহেও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে এবং কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ঘটে।

ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি অ্যালাঁ দি ক্রেসেনজো জানিয়েছেন, বিক্ষোভের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ইন্টারকে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা শনিবারের পরিস্থিতি দ্রুত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

হ্যালোইন উৎসব পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, উৎসবে অনেকের মুখোশ পরার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: