• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

ইবোলার পর এবার অ্যানথ্রাক্স আতঙ্কে কাঁপছে ডিআর কঙ্গো

প্রকাশিত: ১৮:৪৫, ২ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইবোলার পর এবার অ্যানথ্রাক্স আতঙ্কে কাঁপছে ডিআর কঙ্গো

ছবি: আলজাজিরা

আফ্রিকার দেশ ডিআর কঙ্গোয় ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে অ্যানথ্রাক্স। দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ভিরুঙ্গা জাতীয় উদ্যানের সেমুলিকি নদীতে গত চার সপ্তাহে একের পর এক জলহস্তীর মৃতদেহ পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় এসব প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে নদীতে জলহস্তীর অস্বাভাবিক মৃত্যু নজরে আসে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাইকেল কাম্বালে জানান, ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে জলহস্তীর এমন গণমৃত্যু নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

ভিরুঙ্গা জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় এক মাসে ২৮টি জলহস্তীর মৃত্যু হয়েছে। ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে অ্যানথ্রাক্স রোগ হয়। আক্রান্ত বা মৃত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে কিংবা তার মাংস খেলে মানুষের মধ্যেও এ রোগ ছড়াতে পারে।

পরিবেশবিদ ও পশুচিকিৎসাবিশেষজ্ঞ জোয়েল মবুসা মাপোলি বলেছেন, জলহস্তীর মৃত্যু উদ্যানটির বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় ক্ষতি। জলহস্তী জলজ ও স্থলজ পরিবেশের মধ্যে পুষ্টি উপাদানের আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এদের সংখ্যা কমে গেলে পরিবেশের ভারসাম্যও ব্যাহত হতে পারে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে উদ্যান কর্তৃপক্ষ। মৃত প্রাণীর দেহ নিরাপদে অপসারণ এবং বন্য প্রাণী ও স্থানীয় মানুষের ঝুঁকি কমাতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট দলগুলো।

এলাকাবাসীকে মৃত প্রাণী স্পর্শ, চামড়া ছাড়ানো কিংবা তার মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোথাও মৃত প্রাণী দেখা গেলে বা সংক্রমণের সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতেও বলা হয়েছে।

১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ভিরুঙ্গা আফ্রিকার সবচেয়ে পুরোনো জাতীয় উদ্যান। জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত এ উদ্যানের সংরক্ষণ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাতের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কঙ্গোর পরিবেশকর্মী অলিভিয়ে এনদোলে বাহেমুকে বলেন, দেশটিতে প্রায় তিন দশক ধরে চলা সংঘাতের কারণে চোরাশিকার ও বন উজাড় বেড়েছে। উদ্যান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, কঙ্গোর সেনাবাহিনী ও এম২৩ বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত চার বছরে উদ্যানটির বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

খরার সময় ভিরুঙ্গায় অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব আগেও দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশে এ ব্যাকটেরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি, জলবায়ু ও পরিবেশগত পরিবর্তন, পানির উৎসের কাছে প্রাণীদের জড়ো হওয়া এবং বন্য প্রাণীর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধতা এ রোগের পুনরাবৃত্তির কারণ হতে পারে।

উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘাস ও অন্যান্য উদ্ভিদের প্রাপ্যতা কমে গেলে তৃণভোজী প্রাণীরা মাটির কাছাকাছি ঘাস খায় এবং অল্প কয়েকটি চারণভূমি ও পানির উৎসের কাছে জড়ো হয়। এতে দূষিত মাটির সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, ভিরুঙ্গা জাতীয় উদ্যানে ১৭১টি দলে দুই হাজার ৭০০টির বেশি জলহস্তী রয়েছে। তবে ২০২৫ সালে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাবে সেখানে ৬৫টি জলহস্তীর মৃত্যু হয়েছিল। তখন মৃতদেহ উদ্ধারে খননযন্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছিল উদ্যানের কর্মীদের।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু মাটিতে স্পোর আকারে কয়েক দশক পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। ফলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি জরুরি।

বিশেষজ্ঞ মাপোলি অ্যানথ্রাক্স মোকাবিলায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম একসঙ্গে জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, রোগের বিস্তার পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, মৃত প্রাণীর দেহ নিরাপদে অপসারণ এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, জলহস্তী ভিরুঙ্গার বাস্তুতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। এদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে জলজ ও স্থলজ পরিবেশের মধ্যে প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত