• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

চীন-ওমানের মধ্যে ১৪ নথি সই

ইরান যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে চীন

প্রকাশিত: ২২:৫৫, ২ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইরান যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে চীন

ছবি: আলজাজিরা

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের অবসান এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করছে চীন। দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর সোমবার (২ নভেম্বর) বেইজিংয়ে ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই দিনে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং। পাশাপাশি চলতি মাসে ইরান, ওমান ও সৌদি আরব সফর করবেন চীনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া এবং তা আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে বেইজিংয়ের এসব উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চীন বলছে, সংলাপ ও আলোচনাই সংকট সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছে চীন ও ওমান।

সোমবার (২ নভেম্বর) বেইজিংয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপসচিব আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে বৈঠক করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এ সময় তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং তা আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে সংলাপ ও আলোচনাই সামনে এগোনোর একমাত্র কার্যকর পথ।

বৈঠকে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি চীনের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন ওয়াং ই। সংঘাত শুরুর জন্য বেইজিং ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করে আসছে।

আলজাজিরার বেইজিং প্রতিনিধি ক্যাটরিনা ইউ বলেন, ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশটির অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহ ও মাসগুলোতে যুদ্ধ বন্ধে চীনের কূটনৈতিক উদ্যোগে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ক্যাটরিনা ইউর মতে, সোমবারের বৈঠকগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে, সংকটের অগ্রগতি না হওয়ায় চীন এখন আরও সক্রিয় হতে চাইছে।

এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন চলতি মাসে ইরান, ওমান ও সৌদি আরব সফর করবেন। এতে অঞ্চলটিতে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

একই দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং বেইজিংয়ে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে স্বাগত জানান। ১৯৭৮ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম ওমানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান চীন সফর করছেন।

বৈঠকে শি জিংপিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলকে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভূরাজনৈতিক সংঘাতের মঞ্চে পরিণত হতে দেওয়া উচিত নয়।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির অপর পাশে ইরানের অবস্থান। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি রফতানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের কারণে সেখানে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ চীনের জন্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শি জিংপিং ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে’ পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করেন।

সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সফরে চীন ও ওমানের মধ্যে ১৪টি সহযোগিতা নথি সই হয়েছে। এসব নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশ মুদ্রা বিনিময়সংক্রান্ত একটি চুক্তিও করেছে।

যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবারও সংলাপ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে দুই দেশ।

আলজাজিরার প্রতিনিধি ক্যাটরিনা ইউ বলেন, চলমান সংঘাত চীন ও ওমানের সম্পর্ককে উভয় দেশের কাছেই আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে চীনের জ্বালানি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় ওমানের গুরুত্ব বেড়েছে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির বাইরে ওমানের বেশ কয়েকটি বন্দর অবস্থিত। এ কারণে জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার ক্ষেত্রে দেশটি চীনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: আলজাজিরা

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত