‘বিমানে ভ্রমণ করবেন না’ বললেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, নেপথ্যে কি?
ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস
দীপাবলি উৎসবকে কেন্দ্র করে উড়োজাহাজের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হলে আবেদনকারীকে ‘বিমানে ভ্রমণ করবেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ। স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় টিকিটের দাম ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে- এমন অভিযোগ তুলে করা আবেদনে দ্রুত শুনানি চাওয়া হলেও তা খারিজ করে দেন আদালত।
দীপাবলি উৎসবের সময় অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে জনস্বার্থে আবেদনটি করা হয়েছিল। আবেদনকারীর আইনজীবী যুক্তি দেন, বিমান পরিবহন একটি অত্যাবশ্যকীয় সেবা। তাই টিকিটের ভাড়ায় এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ভারতের সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা সাম্যের অধিকারের পরিপন্থী।
আবেদনে উৎসব, ছুটির দিন ও জরুরি পরিস্থিতিতে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়। তবে বিচারপতি বিক্রম নাথ আবেদনকারীর জরুরি শুনানির যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি। তিনি ‘বিমানে ভ্রমণ করবেন না’ মন্তব্য করার পর আদালতে পরবর্তী মামলাটি উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।
ভারত সরকার গত অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, উড়োজাহাজের ভাড়া নিয়ন্ত্রণে ‘ভারতীয় বায়ুযান অধিনিয়ম, ২০২৪’-এর আওতায় নতুন বিধিমালা প্রণয়নে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে বিধিমালাটি প্রকাশের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছিল।
এরপর আদালত আগামী ১৬ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির আগে নতুন বিধিমালাটি উপস্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেন। তবে আবেদনকারী এর আগেই জরুরি শুনানি চেয়েছিলেন।
বিশ্বজুড়ে বিমানভাড়া বাড়ার পেছনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে বিমান হামলার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালাতে পারে- এমন ইঙ্গিতের মধ্যে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে পারে।
ইন্ডিগোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উইলি ওয়ালশ সোমবার বলেছেন, উড়োজাহাজের জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোয় বিমানভাড়া আরও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা বুঝতে পারি, মানুষ কম ভাড়া চান। তবে কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হয়। আমরা যতটা সম্ভব বাড়তি ব্যয় নিজেরা বহন করার চেষ্টা করছি।”
ওয়ালশ জানান, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি বিমান পরিবহন খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একটি বিমান সংস্থার মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৩২ শতাংশই জ্বালানির পেছনে ব্যয় হয়।
এ ছাড়া বিমানবন্দরের অবকাঠামো ব্যবহারের উচ্চ ব্যয়ও বিমান সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওয়ালশ বলেন, “বিমানবন্দরের চার্জ অনেক বেশি। কর কম হলে আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। তাই কর ও বিমানবন্দরের চার্জ কমানোই এগিয়ে যাওয়ার পথ।”
এদিকে, ভারত সরকার নতুন বিধিমালা জারি করেছে, যার আওতায় বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং জনস্বার্থে বিমান সংস্থাগুলোর টিকিটের মূল্য নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে পারবে কেন্দ্রীয় সরকার।
সূত্র: এনডিটিভি
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: