ইতিহাস গড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন আবদুল এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে এই ইতিহাস গড়েন ৪২ বছর বয়সী সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তার এ জয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন ধরে রাখার পাশাপাশি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লড়াইয়েও দলটিকে এগিয়ে দিয়েছে।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই জয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার সুযোগ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা।
জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা এল-সায়েদ নির্বাচনী প্রচারে কর্মজীবী পরিবারগুলোর ব্যয় কমানো এবং রাজনীতিতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব হ্রাসের ওপর গুরুত্ব দেন। তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল ‘মেডিকেয়ার ফর অল’—প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের সমর্থিত সরকারিভাবে অর্থায়ন করা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন ছিল।
এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের বয়স ৬৩ বছর। তিনি সাবেক কংগ্রেস সদস্য ও এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা। নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জাতীয় পর্যায়ের রিপাবলিকান নেতাদের জোরালো সমর্থন নিয়ে মাঠে নামেন রজার্স।
নির্বাচনী প্রচারে রজার্স এল-সায়েদকে উগ্রপন্থী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তার বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ইসলামি চরমপন্থার প্রতি সহানুভূতিশীল বলে দাবি করেন রজার্স। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এল-সায়েদ। অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। ডেমোক্র্যাটরা বলেছেন, এল-সায়েদের বিরুদ্ধে এসব প্রচারে ইসলামবিদ্বেষী ধারণা ও প্রচলিত নেতিবাচক বয়ান ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিরোধিতা এবং গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করার কারণে এল-সায়েদের প্রতি যেসব ইহুদি ভোটারের আপত্তি থাকতে পারে, তাদের সমর্থন আদায়েও উল্লেখযোগ্য চেষ্টা চালান রজার্স।
তবে অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ এবং ট্রাম্পের কম জনপ্রিয়তার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেননি রজার্স। নির্বাচনী প্রচারের শেষ কয়েক সপ্তাহে ইরান যুদ্ধ এবং কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যবিরোধের প্রশ্নে ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ করেন তিনি। রজার্সের যুক্তি ছিল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের ব্যয় কমাতে এই দুই বিরোধের অবসান প্রয়োজন।
সূত্র: রয়টার্স
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: