মাস্কের কোটি কোটি ডলারও জেতাতে পারলো না রিপাবলিকানদের
ছবি: আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে জেতাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে তার কোটি কোটি ডলারের সহায়তাও কাজে আসেনি। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর বড় জয়ে ১৯৮৮ সালের পর প্রথমবারের মতো আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেল।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যাক্সটনের নির্বাচনী প্রচারে মাস্কের রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার অনুদান দেয়। এর আগে সেপ্টেম্বরে সিনেট লিডারশিপ ফান্ডকে তিনি দিয়েছিলেন আরও ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। তবে বিপুল অর্থও কাজে আসেনি। জয়ী হওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে তালারিকো বলেন, “আমরা প্রমাণ করেছি, পৃথিবীর সব অর্থও টেক্সাসের মানুষের শক্তির সঙ্গে পেরে উঠবে না।”
নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়ে কৌতুক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক লেখেন, “মনে হচ্ছে, এবার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য আমার মহাকাশের লেজারগুলো কাজ করেনি।”
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বুধবার সকালে সামগ্রিকভাবে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলা ও স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম যথাক্রমে ৪ দশমিক ৯ ও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায়। নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাটদের অনেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের বিরোধিতা করেছিলেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে তালারিকোর জয়কে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একাধিক আসনে জয়ের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।
মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে টেক্সাস। অঙ্গরাজ্যটির অস্টিনে টেসলার সদর দপ্তর এবং স্টারবেসে স্পেসএক্সের রকেট উৎক্ষেপণকেন্দ্র রয়েছে।
প্যাক্সটনের পক্ষে বিভিন্ন বাইরের সংগঠনের মাধ্যমে অর্থ সহায়তার পাশাপাশি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সেও তালারিকোর বিরুদ্ধে প্রচার চালান মাস্ক। অক্টোবরে নির্বাচনী প্রচার থেকে তালারিকো কিছু সময়ের জন্য আড়ালে চলে গেলে তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে মাস্ক লেখেন, “তালারিকোর মধ্যে গুরুতর কিছু সমস্যা আছে।”
এর জবাবে তালারিকো লেখেন, “যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা একজন ট্রিলিয়নেয়ারকে নিজের পছন্দের সিনেটর কিনে নেওয়ার সুযোগ দেয়, সেই ব্যবস্থার মধ্যেই গুরুতর সমস্যা রয়েছে।”
এবারের অন্যতম ব্যয়বহুল সিনেট নির্বাচনে অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত অনুদানদাতা হয়েছেন মাস্ক। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, দলটির প্রার্থীদের সমর্থনে তিনি প্রায় ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন।
মাস্কের অর্থের বড় অংশ গেছে ‘সুপার পিএসি’ নামের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে। এসব সংগঠন সীমাহীন অর্থ সংগ্রহ করতে পারলেও সরাসরি কোনো প্রার্থীকে অর্থ দিতে পারে না কিংবা প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারশিবিরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারে না।
ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল ও প্রচলিত রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সরাসরি অনুদানের ক্ষেত্রে আইনি সীমা রয়েছে। অন্যদিকে, সুপার পিএসিগুলো স্বাধীনভাবে অর্থ ব্যয় করে প্রার্থীর পক্ষে বিজ্ঞাপন প্রচারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালাতে পারে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম বড় অর্থদাতায় পরিণত হয়েছিলেন মাস্ক। তবে এবার প্যাক্সটনের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও একই ধরনের সাফল্য পেলেন না তিনি।
সূত্র: বিবিসি
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: