যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হলেন যেসব মুসলিম নেতা
রাজনৈতিক মেরুকরণ আর ইসলামবিদ্বেষের ঝড় সামলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রীতিমতো 'ব্যালট বিপ্লব' ঘটিয়েছেন মুসলিম প্রার্থীরা। সিনেটের ইতিহাসে প্রথম জয় থেকে শুরু করে কংগ্রেসে রেকর্ডসংখ্যক আসন প্রমাণ করেছে মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানরা এখন আর কোনো পার্শ্বচরিত্র নয়।
এবারের নির্বাচনে মুসলিম, নারী, কৃষ্ণাঙ্গ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বে এসেছে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। বিশেষ করে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা দেশটির রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইয়েদ। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন তিনি।
নিউ জার্সিতেও তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। রিপাবলিকান গ্রেগ মেলেকে হারিয়ে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট আদম হামাওয়ি। এর মধ্য দিয়ে নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হলেন তিনি। মিসরীয় বংশোদ্ভূত হামাওয়ি একজন প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক সার্জন। এছাড়া সাবেক মার্কিন সেনা চিকিৎসক হিসেবে ইরাক যুদ্ধেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম রাজনীতিক নাবিলা সৈয়দ জয় পেয়েছেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সিনেটে। ২০২২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইলিনয়ের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন নাবিলা। ২০২৪ সালে তিনি সেই আসনে পুনর্নির্বাচিত হন। এবার রিপাবলিকান ডারবি হিলসকে হারিয়ে সিনেটে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যের আইন প্রণয়নে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পেলেন তিনি।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটে জয়ী হয়ে প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন আবের কাওয়াস। কুইন্সের বাসিন্দা কাওয়াস দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসী ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন। তিনি নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম হিজাব পরিহিত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী যিনি স্টেট সিনেটর পদে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন।
অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের ১৩তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে লড়াই করে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে জায়গা করে নিয়েছেন দারিআলিঝা আভিলা শেভালিয়ে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গ্র্যাজুয়েট দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসী অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়া প্রথম 'লাতিনা মুসলিম' প্রতিনিধি হিসেবে ইতিহাস রচনা করেছেন।
মিশিগান থেকে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালিব। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়েও সরব রয়েছেন তালিব। মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর। ২০১৮ সালে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়ে রাশিদা তালিবের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যের একজন হন।
এর আগে মার্কিন কংগ্রেসে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫ জন মুসলিম সদস্য ছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীরা সেটিকে ছাপিয়ে গেছেন। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস-এর তথ্যানুসারে, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন স্তরে ১৬০ জনেরও বেশি মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যা বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
বিভি/এমএফআর













মন্তব্য করুন: