১৫ বার গুলি চালিয়ে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদকে হত্যা করলো প্রতিবেশী!
পার্কিং নিয়ে সামান্য বিরোধের জেরে ভারতের হরিয়ানার ফরিদাবাদে প্রতিবেশীর গুলিতে নিহত হয়েছেন দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরমজিৎ ধনখড়। পুলিশের দাবি, শুক্রবার রাতে বহুতল ভবনের পার্কিং এলাকায় নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে তাকে লক্ষ্য করে প্রায় ১৫টি গুলি ছোড়েন প্রতিবেশী মোহন ওরফে মনু শর্মা। এর মধ্যে ৯টি গুলি লাগে পরমজিতের শরীরে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত পরমজিৎ একসময় ভারতের শীর্ষস্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টেক মাহিন্দ্রার এশিয়া অঞ্চলের কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভিয়েতনামভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। ভাতিজার বিয়েতে যোগ দিতে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরেছিলেন তিনি।
পুলিশ জানায়, গুলি চালানোর পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত মোহন ওরফে মনু শর্মা।
সুরজকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) প্রহ্লাদ কুমার সাংবাদিকদের বলেন, পরমজিৎ স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে ৬৪১ নম্বর বাড়ির প্রথম তলায় থাকতেন। কাজের প্রয়োজনে তিনি সিঙ্গাপুরে বসবাস করতেন। ভাতিজার ২৪ নভেম্বরের বিয়েতে যোগ দিতে দুই দিন আগে ফরিদাবাদে ফিরেছিলেন। তার আদি বাড়ি হিসারে।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে জিম থেকে বাড়ি ফেরেন পরমজিৎ। এ সময় একই ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাসকারী মোহন ওরফে মনু শর্মার সঙ্গে গাড়ি পার্কিং নিয়ে তার বিরোধ হয়। একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডা বেড়ে গেলে মনু তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরিদাবাদের সেক্টর ২১সি এলাকার বহুতল ভবনটির পার্কিংয়ে পরমজিতের নির্ধারিত জায়গায় মোহনের গাড়ি রাখা ছিল। জিম থেকে ফিরে গাড়িটি সরিয়ে নিতে বলেছিলেন তিনি। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে মোহন নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল নিয়ে পার্কিং এলাকায় এসে গুলি চালান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, অপরাধ তদন্ত শাখার (ক্রাইম ব্রাঞ্চ) সদস্য এবং ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (এফএসএল) একটি দল। সেখান থেকে বেশ কয়েকটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই পরিবারের মধ্যে কয়েক দিন ধরেই বিরোধ চলছিল। তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তের ছেলে নিয়মিত পোষা কুকুরকে হাঁটাতে নিয়ে এসে ভবনটির পার্কিং এলাকায় মলমূত্র ত্যাগ করাতেন। বিষয়টি নিয়ে পরমজিতের ছেলে সূর্য কয়েকবার আপত্তি জানিয়েছিলেন।
এ নিয়ে গুলির ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগেও দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। তবে প্রতিবারই পরিস্থিতি শান্ত হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ দিন আগে অভিযুক্ত পরমজিতের ছেলেকে গালিগালাজও করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, দেশে ফেরার পর পরমজিৎ একটি জিমে ভর্তি হয়েছিলেন এবং নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করতেন।
এ ঘটনায় পরমজিতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে সুরজকুণ্ড থানা ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। দুই পরিবারের মধ্যকার আগের বিরোধ এবং গুলি চালানোর সময়কার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: