• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশিত: ২২:২৮, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২২:২৮, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিউজিল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে কোনো দলই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। শনিবার (৭ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেশটির ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী ন্যাশনাল পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দল লেবার পার্টিও শক্ত অবস্থানে থাকায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এখন জোট গঠনের সমীকরণ মেলাতে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন প্রধান দুই দলের নেতারা।

প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুকসনের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ৪২টি আসন। এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে দলটির আরও ১৯টি আসন দরকার। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ক্রিস হিপকিন্সের লেবার পার্টি পেয়েছে ৩৬টি আসন।

ন্যাশনাল পার্টি তাদের জোটসঙ্গী অ্যাক্ট পার্টি ও নিউজিল্যান্ড ফার্স্টের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে বামপন্থী জোটের তুলনায় সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সরকার গঠন করতে পারে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

অন্যদিকে লেবার পার্টির নেতা হিপকিন্সও পরাজয় স্বীকার করেননি। তিনি বলেছেন, ‘পরবর্তী সরকার কেমন হবে, তা বুঝতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।’ তার মতে, নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট করেছে যে, পরবর্তী সংসদে সব দলকেই সমঝোতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিন্ন অবস্থান খুঁজে বের করতে হবে।

নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বেকারত্বের মতো বিষয়গুলো প্রচারের অন্যতম প্রধান আলোচ্য ছিল। প্রাথমিক ফলাফলে দলগুলোর আসনসংখ্যা হলো- ন্যাশনাল পার্টি ৪২, লেবার পার্টি ৩৬, গ্রিনস ১৬, অ্যাক্ট পার্টি ১৩, নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট ১২, অপরচুনিটি পার্টি ৭ এবং মাওরি জনগোষ্ঠীর স্বার্থ প্রতিনিধিত্বকারী তে পাতি মাওরি ৫টি আসন।

নিউজিল্যান্ডের নির্বাচন কমিশন আগামী ২৭ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করবে। এর আগে ৯৯ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষ হয়েছে। ভোটের হিসাবে ন্যাশনাল পার্টি ও লেবার পার্টির মধ্যে ব্যবধানও খুব সামান্য। তবে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দেশটির প্রধান দুই দলের সম্মিলিত ভোটের হার ঐতিহাসিকভাবে কমে প্রায় ৬০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশের পথে রয়েছে অপরচুনিটি পার্টি। দলটি ৫ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ায় সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে। দলটির নেতা কিউলায়ে ওং জানিয়েছেন, তারা যেকোনো পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তবে আসনসংখ্যায় এগিয়ে থাকা দলের সঙ্গে প্রথমে আলোচনা করবেন তারা।

এ কারণে এবারের নির্বাচনে অপরচুনিটি পার্টিকে সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলটির সমর্থন কোন জোটের দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করতে পারে পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণ।

অটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অ্যান্ড্রু গেডিস বলেছেন, অপরচুনিটি পার্টি একটি ‘ওয়াইল্ডকার্ড’ হিসেবে কাজ করতে পারে। কোন দল বা জোট সরকার গঠন করতে পারবে, তা নির্ধারণে দলটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দলগুলোর পাশাপাশি পৃথক নির্বাচনী এলাকাগুলোতেও ভোটের ব্যবধান খুব সামান্য। বিদেশে অবস্থানরত ভোটারসহ নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের বিশেষ ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত চিত্র পাওয়া যাবে না। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও তিন সপ্তাহ লাগতে পারে।

এদিকে গ্রিনস পার্টির ভোটের হার কয়েক শতাংশ বেড়েছে। দলটি দেশের প্রধান দুটি সুপারমার্কেট প্রতিষ্ঠানকে তাদের কিছু স্টোর বিক্রি করতে বাধ্য করার প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে সেগুলোকে সরকারি মালিকানাধীন দোকানে রূপান্তর করা যায়।

রয় মরগানের জরিপ বিভাগের প্রধান জুলিয়ান ম্যাকক্র্যান বিবিসি নিউজকে বলেছেন, এবারের নির্বাচনে নিউজিল্যান্ডের ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়ই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তার মতে, তিন বছর আগে লুকসন অর্থনৈতিক সংকট সমাধান ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

বার্ষিক সামাজিক সংহতি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ এখন আর নিউজিল্যান্ডকে সুযোগের দেশ বলে মনে করেন না। দেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। রেকর্ডসংখ্যক নিউজিল্যান্ডবাসী দেশ ছাড়ছেন, যাদের অনেকেই পাড়ি জমাচ্ছেন প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ায়।

নিউজিল্যান্ডে মিশ্র-সদস্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (এমএমপি) পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ ব্যবস্থায় সাধারণত কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট সরকার গঠিত হয়। প্রত্যেক ভোটার দুটি ভোট দেন- একটি নিজ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য, অন্যটি পছন্দের রাজনৈতিক দলকে।

সূত্র: বিবিসি

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত