• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

দেশে উচ্চ শিক্ষিতরাই বেশি বেকার: সংকটটা কোথায়?

প্রকাশিত: ২০:০৪, ৩ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২১:২৪, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
দেশে উচ্চ শিক্ষিতরাই বেশি বেকার: সংকটটা কোথায়?

সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রতি ১০০ জনে ৩৬ জনই বেকার। অপরদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের লেবার ফোর্স সার্বের তথ্য বলছে, সে বছর দেশে প্রায় ৭ কোটি ১৭ লাখ শ্রমশক্তির বিপরীতে কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল ৬ কোটি ৯ লাখ মানুষের। এই জরিপে আরও বলা হয়েছে দেশের  ২০.৩২ লাখ যুব বেকারের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশই উচ্চ শিক্ষিত। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার বলা হয়েছে ১৩.৫৪ শতাংশ। 

দেশের অন্যতম শীর্ষ একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রামিম (ছদ্মনাম) পড়াশোনা শেষ করেছেন আরও ২ বছর আগে। করেছেন ভালো ফলাফলও। সেই থেকে লড়ে যাচ্ছেন মানসম্মত একটি চাকরি পেতে। কিন্তু আজঅবদি মিলেনি কোনো কর্মসংস্থান। বেকারত্বের লজ্জায় যেতে পারেন না নিজের পরিবারের কাছেও। তাই ঈদও কাটে তার ঢাকার ব্যাচেলর বাসায়। 

এই তরুণ বাংলাভিশনকে বলেন, এমনিতেই আমাদের দেশে উচ্চ শিক্ষিতদের জন্য চাকরির বাজার খুবই সংকীর্ণ। তার মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের বড় অংশ বিসিএসের (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) আশায় থাকে। কিন্তু নানান জটিলতায় বিসিএস পরীক্ষা আয়োজনে দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে। পরীক্ষা হলেও ফলফল প্রকাশে দেরি হয়। এর মধ্যে অপেক্ষায় থাকতে হয় পরীক্ষার্থীদের। পুরো সময় তাকে অধ্যয়নের মধ্যে থাকতে হয়। ফলে সে অন্য কোনো কাজ যে করবে সেই সুযোগও থাকে না। এভাবে আমাদের অনেক তরুণকে বিএসিএসের আশায় বেকার বসে থাকতে হয়।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়েছে প্রায় ৪ বছর পর ২০২৫ সালেল ৩০ জুন। ২০২২ সালের ৪৬ তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়েছে ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সালের ৪৭ তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়েছে ২০২৬ ২৮ জুন। ২০২৫ সালে পিএসসির তৎকালীণ চেয়ারম্যান এটিকে ‘জট’ ও ‘কালক্ষেপণ’ উল্লেখ করে নিয়মিত বিসিএস আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেটা হলেও অনেক শিক্ষিত বেকার কমে যেত।

IMF-তাদের বিশ্লেষণে বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিক্ষার বিস্তার যত দ্রুত হয়েছে, সেই অনুপাতে উচ্চদক্ষতার চাকরি তৈরি হয়নি। আধুনিক ও দক্ষতানির্ভর শিল্পের পরিসরও এখনো সীমিত। তাহলে শিক্ষিত তরুণরা কাজ করবে কোথায়?

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যমতে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ। কিন্তু আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২০ সালে করা আরেক জরিপ বলছে, বিদেশে যাওয়া শ্রমিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মাত্র ১০.৮ শতাংশ উচ্চ মাধ্যমিক বা তার বেশি ডিগ্রিধারী। তবে উচ্চ শিক্ষা অর্জনে প্রতিবছর বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পান তরুণদের একাংশ। মানসম্মত চাকরি না পাওয়া উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের বড় অংশ এই পথ বেছে নিতে চান। UNESCOর তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫৩ হাজার। 

নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তরুণ বলেন, সাধারণত আমরা শিক্ষিতরা দেশে চাকরি না পেলে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করি। কারণ শিক্ষা শেষে সেখানে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হয়। সেই কর্মসংস্থান তুলনামূলক সন্মানজনকও হয়। কিন্তু আমাদের দেশ থেকে উচ্চ শিক্ষায় যেতেও নানান প্রতিবন্ধকতা। আপনাকে প্রথমে আইএলটিএস করতে হবে। সেটার যে খরচ তা একজন শিক্ষিত বেকারের পক্ষে বহন করা খুবই কঠিন। সরকার আবার সেই খরচের ওপর উচ্চ ভ্যাট আরোপ করে রেখেছে। একারণে একবার কোনোকারণে আইএলটিএসে অকৃতকার্য হলে আবার যে ভর্তি হবে সেটা অনেকেরই হয়ে ওঠে না। আমার পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। আইএলটিএসে আপনি টিকেও যে ভিসা পেয়ে যাবেন তেমন গ্যারান্টি নেই। ভিসা পেলেও আছে শত প্রতিবন্ধকতা। সরকার এগুলো সমাধান করলেও অনেক শিক্ষিত বেকার কমতো। তাছাড়া দিন শেষেতো টাকাটা দেশেই আসবে।  

২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শিক্ষিত তরুণদের বেকার ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে শিক্ষিত বেকাররা বলছেন, ভাতা নয় দেশে ও বিদেশে শিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের পথ সহজ করা এবং কর্মমূখী শিক্ষার পথ প্রশস্তকরণে দ্রুত উদ্যোগ নেবে এমনটাই চাওয়া তাদের।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত