ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে? প্রতিরোধে যা করবেন
প্রতীকী ছবি
দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট অনেক বিষয় আমরা ভুলে যাই। যেমন-হাতে মোবাইলফোন বা চাবি নিয়ে সারা ঘরে খুঁজে বেড়ানো, কোথায় কী রেখেছেন তা মনে না থাকা। এ ধরনের ঘটনা অনেকেরই হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। তবে স্মৃতিভ্রংশ শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়, শিশু ও তরুণদের মধ্যেও বিভিন্ন কারণে স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
ভারতীয় নিউরোলজিস্ট অংশু সেনের মতে, শিশুদের পড়া মনে না থাকার অন্যতম কারণ হতে পারে অমনোযোগ। অন্যদিকে বয়স্কদের ক্ষেত্রে বারবার ভুলে যাওয়ার পেছনে অ্যালজাইমারস বা পারকিনসন্সের মতো স্নায়বিক রোগসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাতের পরও স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের অবস্থাকে ‘পোস্ট-ট্রমাটিক অ্যামনেশিয়া’ বলা হয়।
স্মৃতি কীভাবে কাজ করে?
নিউরোলজিস্ট অংশু সেন জানান, স্নায়ুতন্ত্রের কেন্দ্র মস্তিষ্কের প্রধান তিনটি অংশ হলো—সেরিব্রাম, সেরিবেলাম ও ব্রেনস্টেম। মানুষের স্মৃতি, চিন্তা, মনোযোগসহ শরীরের নানা শারীরিক ও মানসিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে মস্তিষ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ সেরিব্রাম। এটি দুটি হেমিস্ফিয়ারে বিভক্ত এবং সেরিব্রাল কর্টেক্স নামের একটি আবরণ দিয়ে ঢাকা। চিন্তাভাবনা, বুদ্ধি, মনোযোগ ও স্মৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সেরিব্রাল কর্টেক্সের ভূমিকা রয়েছে।
স্মৃতি গঠন ও সংরক্ষণে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ কাজ করে। এর মধ্যে হিপ্পোক্যাম্পাস গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন রোগ বা শারীরিক অবস্থার কারণে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্মৃতি ও অন্যান্য জ্ঞানীয় সক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মাঝেমধ্যে কিছু ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক হলেও তা যদি ক্রমাগত বাড়তে থাকে, দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলে কিংবা পরিচিত মানুষ, জায়গা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে সমস্যা হয়, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দীর্ঘদিনের বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশনের কারণেও মনোযোগ কমে যেতে পারে এবং এর ফলে ভুলে যাওয়ার সমস্যা বেশি মনে হতে পারে। তাই স্মৃতিশক্তির সমস্যা দেখা দিলে এর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।
ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে যা করবেন
নিউরোলজিস্ট অংশু সেনের পরামর্শ অনুযায়ী, মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকা উপকারী। পছন্দের গান শোনা, গান গাওয়া, বাদ্যযন্ত্র বাজানো কিংবা সুডোকু বা অন্যান্য মানসিক অনুশীলনের মতো কাজে অভ্যস্ত হওয়া যেতে পারে।
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এর পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং নিজের জন্য সময় রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও শাকসবজি, ফল, মাছসহ পুষ্টিকর খাবারকে গুরুত্ব দিতে হবে। সামগ্রিকভাবে নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার, মানসিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
তবে ভুলে যাওয়ার সমস্যা যদি নতুন করে শুরু হয়, দ্রুত বাড়তে থাকে বা দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে নিজে থেকে কারণ নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: