• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের পর কেন ধরা পড়ে থাইরয়েডের সমস্যা?

প্রকাশিত: ২০:৫৬, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বিয়ের পর কেন ধরা পড়ে থাইরয়েডের সমস্যা?

বিয়ের পর অনেক নারীর শরীরে থাইরয়েডের সমস্যা শনাক্ত হয়। এ নিয়ে কারও কারও মনে প্রশ্ন জাগে, বিয়ে কিংবা নতুন সংসারের মানসিক চাপ কি থাইরয়েডের সমস্যার কারণ? চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, বিয়ের সঙ্গে থাইরয়েডের সমস্যার সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত নয়। বরং প্রজননক্ষম বয়সে হরমোনের পরিবর্তন, আগে থেকে থাকা উপসর্গহীন সমস্যা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি শনাক্ত হওয়ার বিষয়গুলো এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

নারীদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে প্রজননক্ষম বয়সে হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপারথাইরয়েডিজমের মতো সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিয়ের পর থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়লেই বিয়েকে এর কারণ মনে করা ঠিক নয়।

আগে থেকে সমস্যা থাকলেও বোঝা যায় না
থাইরয়েডের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও অনেকের ক্ষেত্রে শুরুতে স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে শরীরে সমস্যা থাকলেও তারা দীর্ঘদিন তা বুঝতে পারেন না। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করাতে গিয়ে বিষয়টি শনাক্ত হতে পারে।

বিয়ের পর অনেক নারী সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হতে পারে। গর্ভধারণের পরও মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে আগে থেকে থাকা অশনাক্ত সমস্যাও সামনে আসতে পারে।

এ ছাড়া গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী থাইরয়েড পরীক্ষা করাতে পারেন। ফলে আগে কোনো লক্ষণ না থাকলেও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা শনাক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

মানসিক চাপের সঙ্গে কি থাইরয়েডের সম্পর্ক আছে?
বিয়ের পর নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, সংসারের দায়িত্ব পালন কিংবা পারিবারিক বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে অনেক নারীর মানসিক চাপ বাড়তে পারে। কারও কারও জন্য নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো কঠিনও হতে পারে। এ সময় থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়লে অনেকে মানসিক চাপকে এর কারণ বলে মনে করেন।

তবে বিয়ে বা শ্বশুরবাড়ির পরিবেশের চাপ সরাসরি থাইরয়েডের সমস্যা সৃষ্টি করে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। থাইরয়েডের সমস্যার পেছনে অটোইমিউন রোগ, বংশগত প্রবণতা, আয়োডিনের ঘাটতি বা অতিরিক্ত গ্রহণ এবং কিছু ওষুধের মতো বিভিন্ন কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোন কারণে সমস্যা হয়েছে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

কোন লক্ষণগুলো খেয়াল রাখবেন?
থাইরয়েডের সমস্যার ধরন অনুযায়ী উপসর্গও আলাদা হতে পারে। হরমোনের ঘাটতি হলে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য, শীত বেশি লাগা কিংবা ত্বক শুষ্ক হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, হরমোন অতিরিক্ত তৈরি হলে ওজন কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম, হাত কাঁপা কিংবা ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

তবে এসব লক্ষণ অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও দেখা দিতে পারে। তাই শুধু উপসর্গের ভিত্তিতে থাইরয়েডের সমস্যা নিশ্চিত করা যায় না। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে থাইরয়েড-উদ্দীপক হরমোন (টিএসএইচ) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে।

গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে কী করবেন?
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে থেকে থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো। বিশেষ করে যাদের থাইরয়েডের রোগের ইতিহাস, উপসর্গ বা অন্য ঝুঁকির কারণ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

আগে থেকে থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে গর্ভাবস্থায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, হরমোনের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে।

সবশেষে মনে রাখা জরুরি, বিয়ের পর থাইরয়েডের সমস্যা ধরা পড়া মানেই বিয়ে বা মানসিক চাপ এর কারণ নয়। অনেক সময় আগে থেকে থাকা উপসর্গহীন সমস্যা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিংবা গর্ভধারণসংক্রান্ত চিকিৎসার সময় শনাক্ত হয়। তাই অনুমানের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত