• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ফ্যাটি লিভার থেকে হতে পারে ক্যানসার, যে ৭ লক্ষণে সতর্ক হবেন

প্রকাশিত: ১৭:৩১, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ফ্যাটি লিভার থেকে হতে পারে ক্যানসার, যে ৭ লক্ষণে সতর্ক হবেন

অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি। এ রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই দীর্ঘদিন বুঝতে পারেন না যে তাদের লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমেছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এ সমস্যা থেকে লিভারে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস ও সিরোসিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি লিভারের ক্ষতি আবার বাড়িয়ে দিতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি।

তবে ফ্যাটি লিভার হলেই ক্যানসার হবে, এমন নয়। রোগের অগ্রগতি, লিভারের ক্ষতির মাত্রা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার ওপর নির্ভর করে জটিলতার ঝুঁকি। তাই রোগটি শনাক্ত হওয়ার পর অবহেলা না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের দেরাদুনের কৈলাশ হাসপাতালের কনসালট্যান্ট সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট চিকিৎসক শাশ্বত তিওয়ারির বরাত দিয়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।

ফ্যাটি লিভার কীভাবে বাড়ায় ক্যানসারের ঝুঁকি?
লিভারে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চর্বি জমাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। এর একটি ধরন হলো বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত ফ্যাটি লিভার। কিছু ক্ষেত্রে লিভারে চর্বি জমার কারণে প্রদাহ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন এ প্রদাহ চলতে থাকলে লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং টিস্যুতে দাগ তৈরি হয়। এ অবস্থাকে ফাইব্রোসিস বলা হয়।

ক্ষতি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে সিরোসিস হতে পারে, যা লিভার ক্যানসারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। তবে সিরোসিস ছাড়াও কিছু মানুষের লিভার ক্যানসার হতে পারে। তাই ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হলে রোগের পর্যায় বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শরীরে যে ৭ লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
ফ্যাটি লিভার ও লিভার ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। রোগের অগ্রগতির সঙ্গে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

১. কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় পরিবর্তন না এনেও দ্রুত ওজন কমতে থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। লিভারের রোগসহ বিভিন্ন জটিল শারীরিক সমস্যার কারণে এমন হতে পারে। দীর্ঘদিন অনিচ্ছাকৃতভাবে ওজন কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২. ক্ষুধামন্দা ও খাবারে অনীহা
আগের তুলনায় খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাওয়া, ক্ষুধা না লাগা কিংবা অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি বিভিন্ন অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। এর সঙ্গে ওজন কমতে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

৩. দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা
পেটে দীর্ঘদিন ব্যথা থাকা কিংবা বারবার একই ধরনের ব্যথা ফিরে আসার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। লিভারের সমস্যা ছাড়াও হজমতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে এমন উপসর্গ দেখা যায়। ব্যথা স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।

৪. পেটের ডান পাশের ওপরের অংশে অস্বস্তি
লিভার পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে অবস্থিত। এ জায়গায় ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি অনুভূত হলে তা লিভারের সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে হতে পারে। বিশেষ করে অস্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ক্রমে বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া
পেটে তরল জমে অস্বাভাবিক ফোলাভাব তৈরি হওয়াকে অ্যাসাইটিস বলা হয়। গুরুতর লিভার রোগের ক্ষেত্রে এমন হতে পারে। পেট হঠাৎ ফুলে গেলে বা এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

৬. চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া
চোখের সাদা অংশ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়াকে জন্ডিস বলা হয়। লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া, পিত্তনালির সমস্যা কিংবা অন্যান্য রোগের কারণে এটি হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

৭. বিশ্রামের পরও ক্লান্তি না কমা
পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও ক্লান্তি, দুর্বলতা কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্মে আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। লিভারের সমস্যার পাশাপাশি রক্তস্বল্পতা, ঘুমের ঘাটতি ও অন্যান্য অসুস্থতাও এর কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে কী করবেন?
ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে লিভারের অবস্থা ও রোগের পর্যায় নির্ণয় করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যেতে পারে। প্রয়োজন অনুসারে আলট্রাসনোগ্রাম বা লিভারে ফাইব্রোসিসের মাত্রা নির্ণয়ের পরীক্ষাও করা হয়।

ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন—

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে ধীরে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।

নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: প্রতিদিন হাঁটা এবং অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সুষম খাবার খান: অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয় ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার কমিয়ে শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার বেছে নিন।

ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন: এসব সমস্যার যথাযথ চিকিৎসা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

নিজে থেকে ওষুধ বা ভেষজ উপাদান গ্রহণ করবেন না: লিভার ভালো করার নামে বিভিন্ন ওষুধ বা ভেষজ উপাদান ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ফ্যাটি লিভার একটি পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা হলেও একে অবহেলা করা উচিত নয়। আবার এ রোগ ধরা পড়লেই ক্যানসার হবে, এমন আশঙ্কা করারও কারণ নেই। লিভারে প্রদাহ বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তৈরি হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: