• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

৪০-এর পর গর্ভধারণ নিয়ে কী বলছেন চিকিৎসকরা

প্রকাশিত: ১৯:২০, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
৪০-এর পর গর্ভধারণ নিয়ে কী বলছেন চিকিৎসকরা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি

হলিউড অভিনেত্রী হিলারি সোয়াঙ্কের বয়স এখন ৫২। এই বয়সে তৃতীয় সন্তানের অপেক্ষায় থাকার খবর সামনে আসতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে দেরিতে মাতৃত্ব নিয়ে। এর আগে ৪৮ বছর বয়সে যমজ সন্তানের মা হয়েছিলেন দুইবার অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী। তাঁর এই অভিজ্ঞতা যেমন অনেকের মনে আশার সঞ্চার করছে, তেমনি ৪০ পেরিয়ে গর্ভধারণের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গর্ভধারণের খবর জানিয়ে হিলারি লিখেছেন, ‘এটি ডিসেম্বরে পৃথিবীর আলো দেখবে।’ তবে তাঁর গর্ভধারণের পদ্ধতি কিংবা চিকিৎসাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

শুধু হিলারি নন, চল্লিশের পর মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে আরও অনেক তারকার। অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ ৪২ বছর বয়সে প্রথম সন্তানের মা হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীপিকা পাড়ুকোন ও সিয়েনা মিলারের মতো তারকারাও চল্লিশের পর মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তারকাদের এসব ঘটনা দেরিতে মা হওয়ার বিষয়টিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

বয়স বাড়লে কি গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়?

স্ত্রীরোগ বিভাগের চিকিৎসকদের মতে, চল্লিশের পরও গর্ভধারণ সম্ভব। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীর ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে থাকে। বিশেষ করে ত্রিশের মাঝামাঝি সময়ের পর উর্বরতা কমার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়।

চিকিৎসকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চল্লিশের কোঠায় স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মেনোপজের কাছাকাছি সময়ে গর্ভধারণ আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তাই তারকাদের দেরিতে মা হওয়ার ঘটনা দেখে সবার ক্ষেত্রে একই সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

আইভিএফ কি বাড়তি বয়সে মাতৃত্বের সুযোগ তৈরি করে?

ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফসহ বিভিন্ন প্রজনন চিকিৎসা কিছু নারীর জন্য মাতৃত্বের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে চিকিৎসার সাফল্য নির্ভর করে ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা, সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং নিজের ডিম্বাণু নাকি দাতা ডিম্বাণু ব্যবহার করা হচ্ছে—এসব বিষয়ের ওপর।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দাতা ডিম্বাণু ব্যবহার করে কোনো কোনো নারীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। কিন্তু আইভিএফ বয়সজনিত শারীরিক ঝুঁকি দূর করতে পারে না। এমনকি ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ পরীক্ষার ফল দিয়েও এককভাবে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা যায় না।

৪০-এর পর গর্ভধারণে যেসব ঝুঁকি বাড়তে পারে?

চিকিৎসকের মতে, চল্লিশের পর অনেক নারীই সুস্থভাবে সন্তান জন্ম দেন। তবে এ বয়সে কিছু জটিলতার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। এর মধ্যে রয়েছে—

- গর্ভকালীন ডায়াবেটিস।
- উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া।
- গর্ভপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি।
- ডাউন সিনড্রোমসহ ভ্রূণের কিছু ক্রোমোজোমজনিত সমস্যার আশঙ্কা।
- সময়ের আগে সন্তান জন্ম এবং সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি।

তবে এসব ঝুঁকি মানেই যে জটিলতা ঘটবেই, তা নয়। নারীর পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য, দীর্ঘমেয়াদি রোগ এবং গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যক্তিগত ঝুঁকি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৫২ বছর বয়সে মাতৃত্ব কতটা সম্ভব?

চিকিৎসকদের মতে, ৪০, ৪৮ কিংবা ৫২ বছর বয়সে গর্ভধারণের চিকিৎসাগত বাস্তবতা এক নয়। মেনোপজের পর নিজের ডিম্বাণু দিয়ে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ সম্ভব হয় না। তবে বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন সাপেক্ষে দাতা ডিম্বাণু বা আগে থেকে সংরক্ষিত ভ্রূণ ব্যবহার করে সহায়ক প্রজননপ্রযুক্তির মাধ্যমে গর্ভধারণের চেষ্টা করা যেতে পারে।

এ বয়সে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বেশি হতে পারে। তাই চিকিৎসা শুরু করার আগে নারীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও গর্ভধারণের উপযোগিতা সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে কী করবেন?

চল্লিশের পর সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে দেরি না করে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ কিংবা প্রজনন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভধারণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজন অনুযায়ী থাইরয়েড পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এবং পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে সন্তান পালনের দায়িত্ব, চিকিৎসার ব্যয়, পারিবারিক সহায়তা এবং মানসিক প্রস্তুতি নিয়েও ভাবতে হবে।

চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, মাতৃত্বের জন্য সবার জীবনে একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। চল্লিশের পর গর্ভধারণ অসম্ভব নয়, আবার ঝুঁকিমুক্তও নয়। তাই তারকাদের অভিজ্ঞতাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা গেলেও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা-তথ্য ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শের ভিত্তিতে।

বিভি/জোহা

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত