• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কঠোর হলো আইন, এবার নির্বাচনে অনিয়ম হলে চাকরি হারাতে পারেন ভোট কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ২১:৪৯, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২১:৪৯, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কঠোর হলো আইন, এবার নির্বাচনে অনিয়ম হলে চাকরি হারাতে পারেন ভোট কর্মকর্তা

ফাইল ছবি

গত এক দশকের জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ছিল ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ। দিনের ভোট হয়েছে রাতে, তালিকায় নাম না থাকলেও পড়েছে ভোট—এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও দেওয়া হয়েছে ব্যালট। ভয়াবহ এসব কারচুপির পেছনে শুধু রাজনৈতিক কর্মী নয়, সরাসরি জড়িত ছিলেন ভোটগ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। তবে এবার পাল্টাচ্ছে চিত্র। নির্বাচন পরিচালনায় সামান্য অবহেলায়ও ছাড় নয়!

ভোটের দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়ালে তাকে দিতে হবে চরম মূল্য। নির্বাচনী দায়িত্বে অবহেলার জন্য সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তসহ হতে হবে নানান শাস্তির মুখোমুখি। এমনকি ভোটের দায়ীত্বে ওই সরকারি চাকরিজীবীর অবহেলা, অসদাচরণ বা অনিয়মের ঘটনা তার ব্যক্তিগত নথি, চাকরি বই এবং বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে লিপিবদ্ধের পাশাপাশি ডোসিয়ারেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে । যা বাধাগ্রস্ত করবে তার পরবর্তী পদ্দোন্নতি এবং বেতন বৃদ্ধিকেও।

এতোদিন বাংলাদেশের নির্বাচন পরিচালনা হয়ে আসছিল নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ এর আলোকে। এবার সেটিকে অধিকতর সংশোধন করে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে নতুন একটি অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। এই অধ্যাদেশে কঠোর করা হয়েছে নির্বাচনের দায়িত্বে অবহেলাকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শাস্তির বিধান।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে— কোনো নির্বাচন কর্মকর্তা অর্থাৎ প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, দপোলিং অফিসার বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে কমিশন বা রিটার্নিং অফিসারের আদেশ বা নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে বা অস্বীকৃতি জানালে বা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো আইনের বিধান ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করলে অথবা কর্তব্যে অবহেলা করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এই অসদাচরণের জন্য নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্ত করতে পারবে, বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করতে পারবে, পদাবনতি করতে পারবে অথবা তার পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি অনধিক ২ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে পারবে। এছাড়াও কমিশন চাইলে তাকে চাকরি থেকে অনধিক ২ মাসের জন্য সাময়িকভাবে বরখাস্তও করতে পারবে।

নতুন এই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, অধ্যাদেশটি লঙ্ঘনও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এতে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর কমিশনের আদেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এ বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কোনো মতবিরোধ দেখা দিলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভি/এজেড/কেএস

মন্তব্য করুন: