• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দলীয় ইশতেহারে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স অঙ্গীকার নিয়ে বিআইজিএফ’র গোলটেবিল বৈঠক

প্রকাশিত: ১৩:৩৩, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৩:৩৩, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
দলীয় ইশতেহারে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স অঙ্গীকার নিয়ে বিআইজিএফ’র গোলটেবিল বৈঠক

আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স-সংক্রান্ত অঙ্গীকার কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা নিয়ে এক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম (বিআইজিএফ)। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বনানীর হোটেল সারিনায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনার শিরোনাম ছিল- “দলীয় ইশতেহারে ডিজিটাল গভর্ন্যান্স সম্পর্কিত অঙ্গীকার”।

গোলটেবিল আলোচনায় বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ, নাগরিক অধিকার, নির্বাচনোত্তর নীতিগত অগ্রাধিকার এবং বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ প্রণয়নের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল গভর্ন্যান্সে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে একটি যৌথ বোঝাপড়া তৈরি, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে এসব বিষয় কতটা প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন সেসব নিয়ে জনআলোচনা ও নীতিনির্ধারণে সহায়ক কিছু ঐকমত্যভিত্তিক সুপারিশ তুলে ধরা।

আলোচনায় ডিজিটাল অধিকার ও অন্তর্ভুক্তি, সাশ্রয়ী ও অর্থবহ ইন্টারনেট সংযোগ, তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের অখণ্ডতা, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, উদ্ভাবন ও দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পাশাপাশি ডিজিটাল গভর্ন্যান্সে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

আম্বার আইটি লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকে শিক্ষক, নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর ও বিআইজিএফ-এর ভাইস চেয়ারপার্সন সাইমুম রেজা তালুকদার। বিআইজিএফ-এর নির্বাহী সদস্য শারমিন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিআইজিএফ চেয়ারপার্সন আমিনুল হাকিম, মহাসচিব মোহাম্মদ আব্দুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. রকিবুল হক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মারুফ মল্লিক, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্বো)-এর মহাসচিব ফয়সাল আলিম, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ফিকি)-এর নির্বাহী পরিচালক টি.আই.এম. নুরুল কবির, ভিউজ বাংলাদেশের সম্পাদক রাশেদ মেহেদী, বাংলাদেশ উইমেন ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের চেয়ারপার্সন শামিমা আক্তার, বাংলাদেশ ইয়ুথ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের চেয়ারপার্সন সাঈদা কামরুন জাহান রিপা, জিনিয়াস ফার্মস লিমিটেডের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইরাদ আলী, সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ পারভেজ আলম, ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেডের চিফ অব গভর্মেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার আব্বাস ফারুক, বিআইজিএফ’র নির্বাহী সদস্য ড. জামিল আহমেদ প্রমুখ। 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১৮০ দিনের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ সময় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিগত সরকারের বরাদ্দ ও ব্যয়ের ওপর অডিট পরিচালনা করা হবে এবং বিদ্যমান আইন ও নীতিমালাগুলো পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের কথাও জানান তিনি। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। ইন্টারনেট ব্যবহারে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে কিছু নির্দিষ্ট ডিজিটাল সেবা বিনামূল্যে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি একটি কেন্দ্রীয় ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

বাক্বোর মহাসচিব ফয়সাল আলিম বলেন, গত ১৬ বছরে আইসিটি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটককে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ) ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এই তহবিল সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য ব্যয় হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কোথায় এবং কীভাবে তা ব্যয় হচ্ছে-তা স্পষ্ট নয়।

ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার এ. মামুন বলেন, দেশের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি সমন্বিত এআই নীতি, কৌশল ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এটি ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।
ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেডের চিফ অব গভর্নমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার আব্বাস ফারুক ভবিষ্যতে গ্রিন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে বিআইজিএফ চেয়ারপার্সন আমিনুল হাকিম বলেন, উপযুক্ত নীতিমালার অভাবে ফেসবুক, গুগল ও ইউটিউবের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তিনি বলেন, ইন্টারনেট খাতে পর্যাপ্ত রিডানডেন্সি ও সাবমেরিন ক্যাবল অবকাঠামো না থাকলে বড় বিনিয়োগ আসবে না। বাংলাদেশের মতো একটি দেশের অন্তত পাঁচ থেকে ১০টি সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজন রয়েছে। এসব বিষয়ে বর্তমান ও আগামী সরকারকে গভীর মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানের শেষে তিনি গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

বিভি/এসআই

মন্তব্য করুন: