ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করছে সরকার?-জানুন পুরো প্রক্রিয়া
সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দেশের ৭৯১টি স্থানে একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলার কথা রয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলি তুলে ধরেছেন। এ কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে চিহ্নিত করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
যেভাবে সংগ্রহ করা হবে তথ্য
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের তথ্য একটি ব্যবস্থার আওতায় সংযুক্ত থাকবে।
প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী তথ্য সংগ্রাহকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৫১টি প্রশ্ন করবেন। এসব প্রশ্নের মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক অবস্থা, জীবনযাত্রার মান ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
সফটওয়্যারে নির্ধারণ হবে কারা কার্ড পাবেন
সংগ্রহ করা তথ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে। এর ভিত্তিতে কোন পরিবার সুবিধা পাওয়ার উপযুক্ত, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তথ্য গোপন করে কেউ একাধিক সরকারি ভাতা নিচ্ছেন কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখার কথা জানানো হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। তথ্য সংগ্রহের কাজে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দলীয় পদধারীদের তথ্য সংগ্রাহক হিসেবে রাখা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
পাঁচ স্তরে হবে যাচাই-বাছাই
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী চূড়ান্ত করতে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটি যাচাই-বাছাই করবে।
এ ছাড়া ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রির মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে তাদের যোগ্যতা পুনর্মূল্যায়ন করে তালিকায় পরিবর্তন আনা হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে যোগ্য দরিদ্র পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে।
নারী প্রধানকে দেওয়া হবে অগ্রাধিকার
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে পরিবারের নারী প্রধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে নারীর আর্থিক স্বাবলম্বিতা এবং পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার নির্দেশ
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। কার্ড দেওয়ার কথা বলে কেউ কাবিননামা বা অন্য কোনো কাগজে টিপসই নিতে চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। একইভাবে তথ্য সংগ্রহের নামে কোনো অর্থ দাবি করা হলে তা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কোনো তথ্য সংগ্রাহকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বা তিনি অর্থ কিংবা অননুমোদিত কাগজে টিপসই দাবি করলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি হেল্পলাইন ১০৯৮ নম্বরে যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে পরিবারের সঠিক তথ্য দেওয়া এবং তথ্য সংগ্রহকারীর পরিচয় যাচাই করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: