• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬

জলবায়ু সংকটের ক্ষতি ট্রিলিয়ন ডলার, অর্থায়ন ঘাটতি শত শত বিলিয়ন

তুরস্কে তিন প্রশ্নের কঠিন পরীক্ষায় শুরু হচ্ছে কপ৩১, প্রাপ্তির চেয়ে হতাশার শঙ্কা বেশি!

কেফায়েত শাকিল

প্রকাশিত: ২২:১৫, ৮ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২২:২৮, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
তুরস্কে তিন প্রশ্নের কঠিন পরীক্ষায় শুরু হচ্ছে কপ৩১, প্রাপ্তির চেয়ে হতাশার শঙ্কা বেশি!

ছবি: ইন্টারনেট

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি বাড়ছে, বাড়ছে অভিযোজনের ব্যয়ও। অথচ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রয়োজনের তুলনায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন এখনো নগণ্য। এমন বাস্তবতায় আগামী ৯ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন—কপ৩১ (COP31)। প্রায় ২০০ দেশের প্রতিনিধির পাশাপাশি বিশ্বনেতা, বিজ্ঞানী, পরিবেশকর্মী, তরুণ, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ এক লাখের বেশি মানুষের সমাগম প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

১১ ও ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বনেতাদের বিশেষ সম্মেলন। তুরস্কের পরিবেশমন্ত্রী মুরাত কুরুম সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আর আনুষ্ঠানিক আলোচনার নেতৃত্ব দেবেন অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু ও জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না। তবে দেশটির কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাও সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে এএফপি।

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য- আগের জলবায়ু সম্মেলনগুলোর প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়া। কিন্তু সম্মেলন শুরুর আগেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বড় ধরনের অগ্রগতি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জলবায়ু অর্থায়নের ঘাটতি, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণে অনীহা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবারের সম্মেলনের বড় বাধা হতে পারে।

প্রয়োজন ৩০৫ বিলিয়ন ডলার, অর্থায়ন মাত্র ২৮ বিলিয়ন

জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপির ২০২৬ সালের ‘অ্যাডাপটেশন গ্যাপ রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রতিবছর ৩০৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। অথচ ২০২৪ সালে উন্নত দেশগুলো থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক সরকারি অভিযোজন অর্থায়ন ছিল মাত্র ২৮ দশমিক ২ থেকে ৩১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় অর্থায়ন এখনো প্রায় এক-দশমাংশের পর্যায়ে। গত বছরের ব্রাজিলের কপ৩০ সম্মেলনে ২০৩৫ সালের মধ্যে অভিযোজন অর্থায়ন তিন গুণ বাড়ানোর যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হলেও প্রয়োজনের মাত্র ২০ থেকে ২৯ শতাংশ পূরণ হবে বলে জানিয়েছে ইউএনইপি।

রয়টার্সের ৬ নভেম্বরের প্রতিবেদনে অর্থায়নের এই বিশাল ব্যবধানকে এবারের সম্মেলনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির তুলনায় এই অর্থের পরিমাণ আরও ছোট। জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক সংস্থা ইউএনডিআরআরের ২০২৫ সালের গ্লোবাল অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট বলছে, দুর্যোগের প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক ক্ষতির বাইরে পরোক্ষ, ধারাবাহিক ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হিসাব করলে বিশ্বে প্রতিবছর দুর্যোগের সামগ্রিক ব্যয় ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। অন্যদিকে, সরাসরি দুর্যোগজনিত ক্ষতির বার্ষিক গড় ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ১৮০ থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এখানে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ- ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার হলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতিসহ বিস্তৃত হিসাব; আর ৩০৫ বিলিয়ন ডলার হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিযোজনের অর্থায়নের প্রয়োজন। দুটি হিসাব এক নয়। তবু বৈশ্বিক ক্ষতির ব্যাপকতার বিপরীতে অভিযোজন অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট।

হতাশার জন্য দায়ী কারা?

সম্মেলনের আগেই হতাশার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে উন্নত দেশগুলোর অর্থায়নে অনীহা এবং জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর অবস্থানকে।

২০২৩ সালে দুবাইয়ের কপ২৮ সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার ঐতিহাসিক সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু কীভাবে, কত দ্রুত এবং কোন সময়সীমার মধ্যে কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমানো হবে, তা নিয়ে এখনো ঐকমত্য নেই। ২০২৫ সালের কপ৩০ সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায়ও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বিরোধিতায় এ বিষয়ে একটি স্বেচ্ছামূলক রোডম্যাপের উদ্যোগ নিয়েছিল ব্রাজিল।

এবারও সেই বিরোধের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে। উন্নত দেশগুলোর আর্থিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিও আলোচনাকে জটিল করছে।

এএফপিকে ফ্রান্সের সাবেক জলবায়ু সম্মেলনবিষয়ক প্রধান আলোচক পল ওয়াটকিনসন বলেছেন, এটি এমন কোনো সম্মেলন হবে না, যা পুরো বিশ্বকে বদলে দেবে। তবে সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ এবং এখান থেকে অগ্রগতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও আনতালিয়া সম্মেলন থেকে জলবায়ু কার্যক্রমে বিপ্লব ঘটার প্রত্যাশা না করার কথা বলেছেন।

অর্থাৎ হতাশার জন্য কোনো একক দেশকে দায়ী করা যাচ্ছে না। বরং ঐতিহাসিক নিঃসরণের জন্য দায়ী শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থায়নে অনীহা, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবসায়িক স্বার্থ, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বিরোধিতা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বিভাজন—সব মিলিয়েই সংকট তৈরি হয়েছে।

তুরস্কের নেতৃত্ব: সম্ভাবনা ও প্রশ্ন

কপ৩১ আয়োজনের ক্ষেত্রে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা। তুরস্ক সম্মেলনের সভাপতিত্ব ও কর্মপরিকল্পনা পরিচালনা করবে, আর অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিক আলোচনার নেতৃত্ব দেবে। একদিকে এতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জলবায়ু ঝুঁকিকে আলোচনার কেন্দ্রে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে দুই দেশের ভিন্ন অগ্রাধিকার আলোচনায় সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে।

তুরস্কের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদার ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ থেকে পূরণের প্রস্তাব, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, মিথেন নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু অভিযোজনের প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো। তুরস্কের ঘোষিত অ্যাকশন এজেন্ডায় বিদ্যুতায়ন, অর্থায়ন, অভিযোজন ও সমুদ্র সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে আয়োজক দেশটির নিজস্ব জ্বালানি নীতিতেই রয়েছে বড় বৈপরীত্য। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৬ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের বিদ্যুতের প্রায় ৩৩ শতাংশ আসে কয়লা থেকে। দেশটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ। তুরস্কের নতুন জ্বালানি পরিকল্পনায় ২০৪০ সালের মধ্যে নিঃসরণ ৪০ শতাংশ কমানো এবং সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের ব্যবহার চার গুণের বেশি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। এর জন্য প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট অ্যাকশন ট্র্যাকার তুরস্কের জলবায়ু নীতি ও লক্ষ্যমাত্রাকে ‘Critically Insufficient’ বা গুরুতরভাবে অপর্যাপ্ত হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। সংস্থাটির মতে, দেশটির বর্তমান নীতি প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এখানেই তুরস্কের নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন। যে দেশ বিশ্বকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের আহ্বান জানাচ্ছে, তার নিজের বিদ্যুৎ উৎপাদনেই কয়লার বড় ভূমিকা রয়েছে। একইভাবে অস্ট্রেলিয়াও কয়লা রপ্তানিকারক দেশ। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণের বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান এবারের সম্মেলনে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সম্ভাবনার জায়গাও রয়েছে

হতাশার মধ্যেও কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমছে, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ছে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে। রয়টার্সের ৬ নভেম্বরের প্রতিবেদনে ক্লাইমেট অ্যানালিটিকসের একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে মিথেনসহ অন্যান্য স্বল্পস্থায়ী দূষণকারী গ্যাসের নিঃসরণ কমানো গেলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতি প্রায় ১২ শতাংশ কমানো সম্ভব। যদিও এটি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণের বিকল্প নয়।

এ ছাড়া ব্রাজিলের জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণের স্বেচ্ছামূলক রোডম্যাপ এবং জলবায়ু অর্থায়নকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ থেকেও অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের মতে, কেবল অর্থের পরিমাণ বাড়ালেই হবে না; অর্থায়ন সহজলভ্য, সাশ্রয়ী, পূর্বানুমানযোগ্য এবং দ্রুত ছাড়ের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের প্রত্যাশা কোথায়?

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায় কম হলেও ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, দেশের জলবায়ু অর্থায়নের বার্ষিক প্রয়োজন ২৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির প্রায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ০.৫৬ শতাংশেরও কম।

বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে তাপজনিত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে বাংলাদেশে প্রায় ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। এর অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা ওই বছরের জিডিপির প্রায় ০.৪ শতাংশ।

এ পরিস্থিতিতে কপ৩১ থেকে বাংলাদেশের প্রধান প্রত্যাশা হওয়া উচিত অভিযোজন অর্থায়ন বাড়ানো, ঋণের পরিবর্তে অনুদান নিশ্চিত করা, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে অর্থ ছাড় সহজ করা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি অর্থায়নের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ থেকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে ন্যায্য রূপান্তরের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি ও অর্থায়নের নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

'ডোন্ট গ্যাস এশিয়া' ক্যাম্পেইনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল বাংলাভিশনকে বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু অভিযোজনের অর্থায়ন—এই তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে তুরস্কে কপ৩১ শুরু হচ্ছে বলে সবাই আলোচনা করছে। কিন্তু আমাদের বাস্তবতা হলো, কোনো প্রতিশ্রুতিরই যথাযথ বাস্তবায়ন করা হয়নি। জলবায়ু অভিযোজনের যে অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে, সেটাও মোটেও যথাযথ নয় এবং সেগুলো দেওয়া হচ্ছে লোন আকারে। তিনটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ, তবে মনে রাখতে হবে, তিনটি বিষয়ই অবজ্ঞা করে আসছে উন্নত বিশ্ব। তাই আমাদের উচিত হবে, আমরা আশা না করে বরং এই চাওয়াগুলো যাতে বাস্তবায়ন হয়, তার জন্য কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং নিজেদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত রেখে জি৭৭ রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে আমরা কীভাবে কতদিনের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পৃথিবীকে বের করে আনতে পারব, কত দ্রুত প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন পুনর্মূল্যায়ন করে যথাযথ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পারব এবং উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোকে দেওয়া অর্থ যেন ঋণ না হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এটা তাদের প্রাপ্য।

প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব প্রাপ্তিই হবে সাফল্যের মাপকাঠি

কপ৩১-এর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- বিশ্বনেতারা কি জলবায়ু সংকটের ব্যাপকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থ ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাতে পারবেন? উন্নত দেশগুলো কি প্রতিশ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করবে? জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণের বিষয়ে কি বাস্তব সময়সীমা নির্ধারণ হবে?

আনতালিয়া সম্মেলন থেকে নতুন কোনো ঐতিহাসিক চুক্তি না এলেও অর্থায়ন, অভিযোজন, জাস্ট ট্রানজিশন ও জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণের বিষয়ে বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির তুলনায় অর্থায়নের বর্তমান ব্যবধান এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি দূর না হলে এবারের সম্মেলনও প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তিতে সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর কাছে তাই কপ৩১-এর সাফল্য মাপার মাপকাঠি হবে বক্তৃতা কিংবা ঘোষণার সংখ্যা নয়; বরং প্রতিশ্রুত অর্থের কতটা বাস্তবে পাওয়া গেল এবং সেই অর্থ দিয়ে কত মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত হলো, সেটাই।

বিভি/কেএস/পিএইচ

মন্তব্য করুন: