• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

টাঙ্গাইলের ভাইরাল চিতা বাঘটি ছিল এডিট করা (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১৮:১৪, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপডেট: ২১:১০, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
টাঙ্গাইলের ভাইরাল চিতা বাঘটি ছিল এডিট করা (ভিডিও)

সম্প্রতি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হতেয়া বেত বাগানে চিতাবাঘের সন্ধান মিলেছে বলে একটি খবর প্রকাশ করেছে দুইটি টেলিভিশন চ্যানেল। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এলাকাজুড়ে ছড়িয়েছে তীব্র আতংকও। কথিত চিতা বাঘটির চিত্র ধারণকারীকে একরকম বীরও আখ্যা দিয়েছেন অনেকে। যদিও পরে জানা গেল, সেটি বাঘই ছিল না। ছবিটি ছিলো এডিট করে বানানো।

গণমাধ্যমের খবরে জানা যায় গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে শ্রমিকরা বেত কাটতে গিয়ে বেত বাগানের ভেতর সরু রাস্তায় বসে থাকা অবস্থায় একটি চিতাবাঘ দেখতে পান। তাৎক্ষণিক সেটির চিত্র ধারণ করেন শাকিব খান নামের এক যুবক। টেলিভিশনে দেওয়া ইন্টারভিউতে সেই যুবকসহ এলাকার কয়েকজন দাবি করেন তারা দেখেছেন চিতা বাঘটিকে। তাদের বক্তব্য আতঙ্ক তৈরির পাশাপাশি দেশজুড়ে সৃষ্টি করে চাঞ্চল্যেরও।

অবিশ্বাস্য ঘটনাটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় চিঠি দিয়ে বন বিভাগের সাহায্য কামনা করে উপজেলা প্রশাসন। পরে এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। ঢাকা থেকে তদন্ত দলের সদস্যরা গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন ছবিটি এডিট করা। এ তথ্য জানিয়ে একটি মুচলেকাও দিয়েছেন ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর।

বাংলাভিশনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, যমুনা টিভি ও ডিবিসি টেলিভিশনের মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের চিঠি পাঠান। পরে ঢাকা থেকে আমাদের তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও এলাকাবাসীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। প্রথম বাঘের খবর প্রকাশকারী যুবক শাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে এটি এনিমেটেড ছবি। ওই জায়গার ছবিতে তারা একটি চিতা বাঘের ছবি বসিয়ে প্রচার করার কথা স্বীকার করে ওই যুবক।

গুজব রটানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি একটি লিখিত জবানবন্দি দিয়েছেন। আগামীতে এমন গুজব আর ছড়াবেন না বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমাদের আর কিছু করার নেই। আমাদের দায়িত্ব ছিল সত্যি চিতাবাঘ আছে কি-না সেটা বের করা। আমরা সেটা তদন্ত করে বের করেছি। পরবর্তীতে কিছু করতে হলে উপজেলা প্রশাসন করবে।’

 

বিভি/কেএস

মন্তব্য করুন: