• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২

কালো পানির প্রতিবাদ জানাতে বালু নদীতে কাল থেকে হবে দুই দিনব্যাপী উৎসব

প্রকাশিত: ১৯:৪৯, ২৪ নভেম্বর ২০২২

আপডেট: ১৯:৫৬, ২৪ নভেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
কালো পানির প্রতিবাদ জানাতে বালু নদীতে কাল থেকে হবে দুই দিনব্যাপী উৎসব

রাজধানীর রামপুরা থেকে বয়ে যাওয়া বালু নদীর পাড়ে বাস ছত্রিশটি গ্রামের মানুষের। একসময় এই নদীকে ঘিরে ছিলো তাদের সব কর্মব্যস্ততা। কিন্তু নগরীর দূষিত পানি এখন দুর্বিসহ করে দিয়েছে তাদের প্রিয় বালুনদীকে। দূষিত কালো পানি আজ তাদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নদী দূষণের প্রতিবাদ জানাতে কালো পানিতেই ব্যতিক্রমী উৎসবের আয়োজন হয়েছে সেখানে। আগামী শুক্র-শনিবার (২৫-২৬ নভেম্বর) বালু নদী তীরবর্তী ইটাখোলা, ত্রিমোহিনী, খিলগাঁও এলাকায় হবে এই আয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) ২০২২ সকালে  বালু নদী উৎসব আয়োজন উপলক্ষ্যে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম এবং বারোগ্রাম বালু নদী মোর্চার যৌথ আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে একটি সংবাদ সম্মেলনে এইসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা শহরের খিলগাঁও, ডেমরা, ও সবুজবাগ থানার অন্তর্ভূক্ত ছত্রিশটি গ্রামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত নড়াই, দেবধোলাই ও বালু নদীর পানি এখন প্রচন্ডভাবে দূষিত। বালু নদীকে দূষণমুক্ত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে ওয়াটাকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম এবং বারোগ্রাম বালু নদী মোর্চার যৌথ উদ্যোগে আগামী ২৫ ও ২৬ নভেম্বর (শুক্রবার ও শনিবার) উল্লেখিত নদী তীরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে বালু নদী তীরবর্তী ইটাখোলা, ত্রিমোহিনী, খিলগাঁও এলাকায় ‘বালু নদী উৎসব’ এর আয়োজন করেছে। 

দুই দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে আগামীকাল শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) দুপুর ৩টায় বালু নদীতে অনুষ্ঠিত হবে নৌকা বাইচ এবং ২৬ নভেম্বর সকাল ১১টায় বালু নদী উৎসবের মূল উদ্ধোধনী সমাবেশ ও আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন হবে। এই সমাবেশ সকাল ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বালু নদী উৎসবের উদ্বোধন করবেন ঢাকা-৯ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। এতে বিশিষ্ট সমাজ কর্মী এবং নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশি কবীর এবং পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত উপস্থিত থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, ‘এই দেশ নদীমাতৃক একটি দেশ। নদী বাংলাদেশের মানুষের অস্তিত্বের অংশ, নদী এই দেশের মানুষের উৎসবের অংশ। তাই উৎসবের মাধ্যমে নদীকে রক্ষা করার জন্যই এই আয়োজন। বালু নদী আজ মানুষের বসতির পেছনের অংশে পরিনত হয়েছে, মানুষ আজ সেখানে মৎস চাষ করতে পারে না, কৃষি কাজেও এই নদীর পানি ব্যবহার করা যায় না। তাই বালু নদীপাড়ের মানুষকে সম্পৃক্ত করে দূষণমুক্ত নদীর দাবীতে নদী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। শুধু বালু নয় ঢাকার অন্যান্য নদীগুলোও দূষিত ও দখলকৃত। নদীকে দূষণমুক্ত আর দখলমুক্ত করতে হলে দায়িত্বশীল নদী কমিশন দরকার আর তাই নদী কমিশনকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।’

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম পরিচালিত দূষণবিরোধী এই অধিপরামর্শমূলক প্রকল্পের সমন্বয়ক মো. কামরুজ্জামান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বরোগ্রাম বালু নদী মোর্চার সদস্য সচিব মো. আমজাদ হোসাইন।

সংবাদ সম্মেলনে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন,‘নদী রক্ষার কাজকে দৈনন্দিন কাজের অংশ হিসাবে বিবেচনা করতে হবে। যার বাড়ীর পাশ দিয়ে যে নদী প্রবাহিত হয়েছে সেই নদী রক্ষা করার জন্য তার ভূমিকা সবচেয়ে বেশী। তাই এমন আয়োজন খুবই প্রয়োজন’।

বারোগ্রাম বালু নদী মোর্চার আহ্বায়ক মোঃ সুরুজ মিয়া বলেন, ‘ঢাকার বর্জ্যরে কারণে বালু নদীর মৎস সম্পদ আজ ধ্বংস হয়ে গেছে, আমরা খাদ্য সংকটে পরেছি কারণ বালু নদীর পানি দূষিত হওয়ার কারণে কৃষিকাজে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই আজ বারোগ্রামের জনগণ দুষণমুক্ত বালু নদীর দাবীতে এই উৎসবের আয়োজন করেছে।’

কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট মেহেদী হাসান তার বক্তব্যে বলেন যে, ‘নদীকে রক্ষা করার জন্য নদী উৎসব একটি রুপক আয়োজন। নদীকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য নীতিনির্ধারকেদের দৃষ্টি আকর্ষণই এর মূল লক্ষ্য’।

বিভি/কেএস

মন্তব্য করুন: