• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ডিজিটাল দেশে অ্যানালগ ইমিগ্রেশন

মাসুদ আখন্দ

প্রকাশিত: ১৪:৫৮, ১৬ জানুয়ারি ২০২৩

আপডেট: ১৪:৫৯, ১৬ জানুয়ারি ২০২৩

ফন্ট সাইজ
ডিজিটাল দেশে অ্যানালগ ইমিগ্রেশন

সাধারনত বছরে একাধিকবার দেশে আসি কিন্তু প্যান্ডামিক ও প্যান্ডামিক পরবর্তী সময়ের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারনে প্রায় আড়াই বছর পর দেশে এসেছি। গ্রামিনের একটা নাম্বার আমার আছে যেটা দেশে এলে ব্যবহার করি, না হয় বন্ধ  থাকে। সকাল সকাল শ্যালিকা মোটা অংকের টাকা ফ্ল্যাক্সি করে রেখেছে যাতে আমাকে ফোনের ব্যাল্যান্স নিয়ে ঝামেলা না করতে হয়। কিন্তু যখন ফোন অন করছি তখন গ্রামীনফোন দেখাচ্ছে নো-সার্ভিস! 


এই দিকে এয়ারপোর্টে স্মরনকালের ভয়াবহ জনজট লেগে গেছে। ইস্তেমার বিদেশি মুসুল্লির ভিড় এবং একসঙ্গে হিসাবের বাইরে অনেক গুলো প্লেন ল্যান্ড করাতে ঢাকা এয়ারপোর্টের বেহাল অবস্থা। বিদেশি পাসপোর্টধারিদের জন্য আলাদা বিশেষ লাইনের সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। তারপরেও জনসমুদ্রের নিয়ন্ত্রন নিতে পারছে না। কারন ডিজিটাল বাংলাদেশের ইমিগ্রেশান অফিসারেরা এখনো হাতে লিখেই কাজ করেন!  

লাগেজ কালেশান! সে এক দুঃখ গাথা রিলিফের গম নেয়ার মত কাহিনী! কখন রিলিফের গাড়ি আসবে সেই খবর নেই কিন্তু হাজার হাজার মানুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে বেল্টের দিকে তাকিয়ে আছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। রিলিফের গাড়ি আর আসে না। 
অন্যদিকে শ্বশুর বাড়ির রিসিভিং কমিটির বিশাল বহর ফ্লাইট ল্যান্ডের দুই ঘণ্টা আগেই এয়ারপোর্টে এসে বসে আছে। তারা বারবার ফোন দিচ্ছে- কেন এতো দেরই হচ্ছে? কিন্তু প্রতিবারই এক মহিলা ফোন ধরে শুধু কাঁদছে! কিছু বলছে!  বিষয় কি? এই মহিলা কে? মিতু নাকি? কি হয়েছে আমাদের মেয়ের? এমন কাঁদছে কেন? উত্তেজনা উৎকণ্ঠা চরম পর্যায়ে। 
আবার আরেক দিকে আমার মাসহ সব বোনেরাও এই মুহূর্তে ঢাকাতে এবং তারাও অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। ইন্টারনেটে আমাদের ফ্লাইটের ল্যান্ডিঙের আপডেট দেখছে তাও ৬-৭ ঘণ্টা হয়ে গেছে কিন্তু এখনো কেউ যোগাযোগ করিনি! বিষয় কি? ছেলে কি শ্বশুর বাড়ি পেয়ে আমাদের ভুলে গেল? তারাও ফোন দিচ্ছে এবং এক মহিলার কান্না শুনছে। উত্তেজনা এই দিকেও কম না। 

জটিলতার সমাধান বের করলেন শ্যালিকার বর অর্থাৎ ভায়রা! সে একজন মলিকুলার বায়োলজিস্ট। গবেষনাই তার পেশা। গবেষণা করে যেটা বের করলেন সেটা হল গ্রামিনের কোন নাম্বার যদি এক বছরের বেশী সময় ধরে বন্ধ থাকে তবে সেই সিমের মালিকানা আর থাকে না এবং গ্রামীণ সেই নাম্বার অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। পঞ্চগড়ের কোন এক গ্রামের কোন এক মহিলা সখ করে জীবনের প্রথম সিম হিসাবে কিনেছেন মাত্র কয়েক মাস আগে, তিনি পেয়েছেন আমার নাম্বারটির। 

সেই মহিলার স্বামী একজন আমীন অর্থাৎ জমি মাপামাপির কাজ করে। লোকটি খুবি সন্দেহ প্রবন। তার ধারনা যে তার বউ পরকীয়া করার জন্যই ফোন নিয়েছে। এবং আজ সে একটা বড় প্রমান হাতে পেয়েছে। সে দেখেছে তার বউয়ের ফোনে মোটা অংকের একটা ফ্লেক্সি এসেছে কিন্তু বউ বলছে যে তার ফোনে কোন টাকা নেই! কে পাঠিয়েছে এই টাকা সেই তথ্য বের করতে যেয়ে শারীরিক নির্যাতনের মত ঘটনা ঘটিয়েছে আমীন সাহেব। এই কারনেই মহিলা অঝরে কেঁদে যাচ্ছে। 
এয়ারপোর্টে বিড়ম্বনায় যতটা খারাপ লেগেছিল ঠিক ততোটাই খারাপ লেগেছে গ্রামের মেয়েটির জন্য। সরি বলার জন্য একটা ফোন দেয়া কি উচিত হবে কিনা বুঝতে পারছি না।
 

মন্তব্য করুন: