পাঁচবারের এমপি বিএনপি নেতা আব্দুল হাই আর নেই
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, মুন্সীগঞ্জ-৪ আসনের পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক উপমন্ত্রী মো. আব্দুল হাই আর নেই। অসংখ্য ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও রাজনৈতিক সহকর্মীকে শোকসাগরে ভাসিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার পপুলার হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন।
মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা আব্দুল হাই ‘মা, মাটি ও মানুষের নেতা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মুন্সীগঞ্জের উন্নয়নে তার অবদান সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কাছেও প্রশংসিত ছিল। তার মৃত্যুতে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের প্রথম জানাজা বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা বাদ মাগরিব মুন্সীগঞ্জ শহরের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এবং তৃতীয় জানাজা মিরেশ্বরাই মাদ্রাসা ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জানাজা শেষে তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর গোসাইবাড়ি সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ধানমন্ডিতে তার বাসায় যান। এ সময় তিনি বিএনপির রাজনীতিতে আব্দুল হাইয়ের ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এদিকে, আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, মরহুম আব্দুল হাই ১৯৭৯ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) নীতি ও আদর্শে গভীরভাবে আস্থাশীল এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী আব্দুল হাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একজন আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
জনসেবার মহান লক্ষ্য সামনে নিয়ে রাজনীতি করতেন বলেই সংসদ সদস্য ও সরকারের মন্ত্রী হিসেবে নিজ এলাকাসহ সারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে তিনি ব্যাপক অবদান রেখেছেন বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করেন রিজভী।
তিনি আরও বলেন, আব্দুল হাই ছিলেন একাধারে প্রাজ্ঞ ও জনঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ হিসেবেও সর্বমহলে তার অকৃত্রিম গ্রহণযোগ্যতা ছিল। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতান্ত্রিক চেতনাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে মানুষের বাক্, ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে তার লড়াই ছিল অবিস্মরণীয়।
আব্দুল হাইয়ের মতো আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে রিজভী তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: