জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত সাংবাদিক নেতা কাদের গণি চৌধুরী
ছবি: বাসস
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরীর ৫৩তম জন্মদিন উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতা, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘আড্ডা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা কাদের গণি চৌধুরীর দীর্ঘ পেশাগত জীবন, সাংবাদিকতায় অবদান, সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা এবং দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে কাদের গণি চৌধুরীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, ‘আজ একটি অনন্য আনন্দের দিন। আমরা আমার সহযোদ্ধা, রাজপথের সম্মুখসারির লড়াকু কাদের গণি চৌধুরীর জন্মদিন উদ্যাপন করতে একত্র হয়েছি। তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন।’
তিনি বলেন, স্বৈরশাসন ও কঠিন সময়ে নানা ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন কাদের গণি চৌধুরী। দুঃসময়ে সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জীবিকা ও অধিকার রক্ষার আন্দোলনে ভূমিকা রাখার মাধ্যমে সহকর্মীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন তিনি।
হাসান হাফিজ আরও বলেন, কাদের গণি চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাসস হারানো গৌরব ফিরে পেতে শুরু করেছে। তার গতিশীল নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যাবে এবং দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, গত ১৫ বছর পেশাজীবীদের বিভিন্ন আন্দোলনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্যসচিব হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন কাদের গণি চৌধুরী। বর্তমানে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ায় তার বাস্তবধর্মী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তথ্য কমিশনার এস এ এম মাহফুজুর রহমান বলেন, কাদের গণি চৌধুরীর নেতৃত্ব, পেশাদারত্ব ও সাংবাদিকতা নিয়ে সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। সাংবাদিকতায় পেশাদারত্ব ফিরিয়ে আনা এবং নৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিক নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বশীর জামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকে কাদের গণি চৌধুরীর সঙ্গে তার পরিচয়। তারা একই সময়ে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করেছেন, একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন এবং সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও পেশার প্রতি অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছেন কাদের গণি চৌধুরী। নানা ষড়যন্ত্র ও বাধা পেরিয়ে তাকে এখানে আসতে হয়েছে। সহকর্মীদের প্রতি তার ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ তাকে সাংবাদিক সমাজের একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
খুরশীদ আলম বলেন, সাংবাদিক সমাজের ঐক্য ও নেতৃত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ কাদের গণি চৌধুরী। সাংবাদিকদের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এ সময় তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।
বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফজলুল হক বলেন, কাদের গণি চৌধুরীকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পেয়ে তারা গর্বিত। তার দক্ষ নেতৃত্বে বাসস দ্রুত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক (বাংলা) মুরসালিন নোমানী বলেন, কাদের গণি চৌধুরী কখনো নিজের নীতির সঙ্গে আপস করেননি। বাসসের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংস্থাটি বাংলা ও ইংরেজিতে মোট ২ হাজার ৫৫০টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে ১ হাজার ৩৮৪টি প্রতিবেদন।
তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানের দিনই ইংরেজি দৈনিকে ১০৮টি এবং বাংলা পত্রিকায় ৮৫টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কাদের গণি চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই মাসে সংবাদপত্রে বাসসের প্রতিবেদন প্রকাশের হার ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।
জন্মদিনের আয়োজনে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘সুস্থ থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ায় মহান আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই।’
অনুষ্ঠান আয়োজন এবং ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানানোর জন্য সহকর্মী, বন্ধু ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। একই সঙ্গে আপনাদের ভালোবাসার ভার বহন করতে পারব কি না এবং এর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে পারব কি না, তা নিয়েও ভাবছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জন্মদিনে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি এবং আপনাদের দোয়া চাই—জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেন এ দেশের মাটি ও মানুষ, সভ্যতা, মানবতা এবং জনগণ, সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি।’
সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবেন। সাংবাদিকতার ঐতিহ্য অনুসরণ করে সত্যকে সত্য এবং ভুলকে ভুল বলার নীতিতে অটল থাকবেন।
অনুষ্ঠানে বাসসের উপপ্রধান বার্তা সম্পাদক জুনান নাশিত সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য দেন শাহনাজ বেগম পলি, নুর উদ্দিন, এ কে এম মহসিন, জহিরুল হক রানা ও ড. আবদুল হাই সিদ্দিক।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রানা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কাজী রওনক হোসেন ও শাহনাজ বেগম পলি, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ ও সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান, গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এইচ এম দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিন ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, বৃহত্তর ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নুর উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোমিন হোসেন এবং ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এ কে এম রাশেদ শাহরিয়ারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।
বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদক (ইংরেজি) মো. মানিকুল আজাদ, সিটি এডিটর হারুন আল নাসিফ, প্রধান প্রতিবেদক (ইংরেজি) জি এম রাজিব হোসেন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাসসের বিজনেস এডিটর এস এম রাশিদুল ইসলাম এবং নিউজ কনসালট্যান্ট কাওসার আহমেদসহ সংস্থাটির সাংবাদিকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাব মসজিদের ইমাম মাওলানা মুনিরুজ্জামানের দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে কেক কেটে জন্মদিন উদ্যাপন করা হয়। এর আগে বাসস কার্যালয়ে সহকর্মীরা ফুলের তোড়া দিয়ে কাদের গণি চৌধুরীকে শুভেচ্ছা জানান।
সূত্র: বাসস
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: