পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াত নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার মধ্যে পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডা এবং ওসিসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আহত করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি পলাশবাড়ী উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ। এছাড়া ৯ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১২-১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শরীফ আল রাজীব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আহত এএসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পলাশ আহমেদ ছাড়া অন্যান্য আসামিরা হলেন, মাহফুজ রহমান সিনহা (২৮), তৌহিদুল ইসলাম কানন (৩৩), মেহেদী হাসান (৩৫), সাদ্দাম হোসেন (৩০), শাওন (৩৫), গোলজার রহমান (৩২), সবুজ মিয়া (৩২) ও আব্দুল মালেক (৩৭)। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টার দিকে পলাশ আহমেদ কয়েকজন যুবককে নিয়ে একটি অভিযোগপত্রসহ থানায় যান। ওসির সঙ্গে কথাবার্তার এক পর্যায়ে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পলাশ আহমেদ পলাশবাড়ী বাজারের মুরগিহাটির একটি বিরোধপূর্ণ দোকান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার জন্য ওসিকে চাপ দেন।
ওসি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের এখতিয়ার বলে জানালে তিনি ও তার সঙ্গীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ওসি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জানালে তারা অনুষ্ঠান শেষে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট না হয়ে পলাশ ও তার সহযোগীরা ওসির ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে নারী কনস্টেবল মোছা. মোস্তারিণা আক্তারসহ অন্তত ৯ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তারা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তৌহিদুল ইসলাম নামে এক স্থানীয় সাংবাদিককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি একটি দৈনিকের পলাশবাড়ী প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। ঘটনার পর গাইবান্ধা-৩ আসনের জামায়াতের এমপি নজরুল ইসলাম লেবু ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের শনাক্তের দাবি জানান।
আহত এএসআই রুহুল আমিন অভিযোগে বলেছেন, ‘পলাশ আহমেদ ফোনে কথা বলতে বলতে থানায় ঢুকে অন্যদের থানা ঘেরাওয়ের আহ্বান জানান। পরে তিনি ও তার সহযোগীরা হামলা চালান এবং সরকারি রেজিস্টার ছিঁড়ে ফেলেন।’
পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আবদুল্লাহ সোহাগ জানান, আহত কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ভর্তি এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান বলেছেন, ‘ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, তবে নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।’
গাইবান্ধা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবিএম রশিদুল বারী বলেছেন, ‘সরকারি জায়গার একটি দোকান নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা ওসির ওপর চাপপ্রয়োগ করে ব্যর্থ হয়ে হামলা চালায়।’
সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: