• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

মেসির বিশ্বস্ত পায়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ  স্বপ্ন বেঁচে রইলো

মাজহারুল ইসলাম শামীম

প্রকাশিত: ১৯:২৪, ২৭ নভেম্বর ২০২২

আপডেট: ১৫:১৬, ২৮ নভেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
মেসির বিশ্বস্ত পায়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ  স্বপ্ন বেঁচে রইলো

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপ কে যদি কবিতা মনে করা হয়, সে কবিতার ছন্দ হিসেবে ধরে নেওয়া হবে মেসি কে।আর সে কবিতার শিরোনামে থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ যেমন লুকিয়ে থাকে,তেমনি আর্জেন্টিনা দলের ডি-মারিয়া এবং লাউতারো মার্টিনেজ এরাও লুকিয়ে থাকে দলের প্রধান আলোচনায়। কিন্তু তাতেও কি সমর্থকদের মন থেকে একটু ভালোবাসা কমে মেসির জন্য। মোটেই না!কারণ,  মেসি জিতলে যেনো জিতে যায় কোটি সমর্থক।মেসি জিতলে  রঙিন হয়ে বিশ্বকাপ। আর সে রঙিন সাজে বিশ্বকাপ কে সাজাতে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রয়োজন ছিলো মেক্সিকো কে হারানো।

 

আর সেই জয় যে এতটা সহজ ছিলো না তা মেসির জানা ছিলো।তাতে কি!মেসি যে সেরা।মেসি তো একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। মেক্সিকোর বিপক্ষে ২৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে আর্জেন্টিনার জয়ে তেমনটি আবারও প্রমাণ করে দেখালেন মেসি।
মেক্সিকোর সাথে এই ম্যাচ জিতে মেসি করলেন অনেক রের্কড ও। যেমনঃ আর্জেন্টিনা হয়ে বিশ্বকাপে ২১ ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব ম্যারাডোনার সাথে মেসির নাম ও লেখা হলো। তাছাড়া বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৫ ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব রয়েছে জার্মানির ম্যাথাউসের।আর মেসি যদি কাতার বিশ্বকাপে ফাইনাল পর্যন্ত খেলতে পারে তাহলে সে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলারও কৃতিত্ব অর্জন করবে। আবার,মেক্সিকোর সাথে গোল করার মাধ্যমে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে ২১ ম্যাচে ৮ গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন মেসি।

মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচ জিতাই যে মেসির জন্য একমাত্র পথ ছিলো।এই ম্যাচে মেসিকে জ্বলে উঠা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ ছিলোও না।কারণ, এটিই হয়তো মেসির শেষ বিশ্বকাপ। এটি যদি মেসি না জিততে পারে সে বিশ্বকাপ জিতার আক্ষেপ থেকে যাবে।এক মেসি ফুটবল বিশ্বকে যা দিয়ে যদি একটা বিশ্বকাপের শিরোপা না করতে পারে নিজের তাহলেও বিশ্বকাপ ও যেনো ঋণী হয়ে থাকবে মেসির কাছে।

এদিন ডি-মারিয়া কে মাঝমাঠে খেলতে দেখা গেলো।সম্ভবত, গত ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে ৩গোল অফসাইড হওয়াতে ম্যাচ কম্বিনেশন ভালো রাখতে ২ জন ফরওয়ার্ড রেখে ডি-মারিয়া কে মাঝমাঠে খেলান কোচ।তাতেও কি দমে যাবে ডি-মারিয়া! মেক্সিকোর ডি-বক্সের সামনে ডি মারিয়ার পাস পেলেন মেসি। সেখান থেকে বাঁ পায়ের গড়ানো শট। গোলকিপার ওচোয়াকে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে যায় জালে, গোল। আরেকটি মেসি ম্যাজিক। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে আরেকটি গোল, এবার আলেবেসিলেস্তদের তরুণ তুর্কি ২১ বছর বয়সী এনসো ফের্নান্দেজ। গোলের উৎস (অ্যাসিস্ট) সেই মেসি। মেসির কাছ থেকে পাওয়া পাস রিসিভ করে দুই ডিফেন্ডারকে পায়ের দোলায় কাটিয়ে দুরন্ত শটে বল জালে জড়ান তরুণ এই মিডফিল্ডার। শেষ পর্যন্ত দুই গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। এই জয়ে বেঁচে রইলো আর্জেন্টিনার আশা।

তাছাড়াও ম্যাচ শুরুর আগেও পরিসংখ্যান ছিলো আর্জেন্টিনার পক্ষে। বিশ্বকাপে কখনো মেক্সিকোর বিপক্ষে হারেনি আর্জেন্টিনা।’ এবারও হারল না। এতে পরিসংখ্যানও থেকে গেল আগের মতোই। মেক্সিকোর বিপক্ষে বিশ্ব মঞ্চে চার দেখার প্রতিটিতে জয় পেল আর্জেন্টিনা।
কাতার বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে চতুর্থ দেখায় আর্জেন্টিনা ২-০ গোলের জয় তুলে নিল। দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেছেন লিওনেল মেসি, দ্বিতীয় গোলটি করেছেন ফার্নান্দেজ।

ফিরে দেখা মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কিছু জয়ের ইতিহাসঃ

১৯৩০ সালের সেই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা মেক্সিকোকে হারিয়েছিল ৬-৩ গোলে। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার স্ট্যাবিল গুইলির্মো করেছিলেন হ্যাটট্রিক গোল। জোড়া গোল করেছিলেন অ্যাডলফো জুমেলজু। একটি করেছিলেন ভারাল্লো। আর্জেন্টিনা খেলেছিল ফাইনালেও। তবে প্রথমবার ফাইনাল খেলে উরুগুয়ের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি।

এরপরে বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হতে দুদলকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল দীর্ঘ ৭৬ বছর। ২০০৬ সালের সেই বিশ্বকাপেও মেক্সিকোকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। যদিও প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো ১-১ গোলে সমতায় ছিল। কিন্তু সে দিন ৯৮ মিনিটে ম্যাক্সি রদ্রিগেজের গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। এসময় দলের সঙ্গে ছিলেন লিওনেল মেসিও। খেলেছিলেন ১৯ নম্বর জার্সি গায়ে।

তৃতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাতে ২০১০ সালের বিশ্বকাপে। এবারও দলের সঙ্গে ছিলেন লিওনেল মেসি। তবে তাঁর জার্সি নম্বর ১০। শেষ ষোলোয় সে বার মেক্সিকোকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার পক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন কার্লোস তেভেজ। এক গোল করেছিলেন গঞ্জালো হিগুয়েন।

এদিকে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার ও ক্ষুদে জাদুকর লিওনেল মেসি এ পর্যন্ত ৬ বার মেক্সিকোর মুখোমুখি হলেন। পাঁচবার পেয়েছেন জয় ও একবার করেছেন ড্র।

শনিবার দিবাগত রাত ১টায় মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে কিংবদন্তি ম্যারাডোনার পাশে নিজের নামটি লেখিয়েছেন মেসি। আর একটি গোল পেলে ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি।আর এই জয়ে আর্জেন্টিনা টিকে থাকলো বিশ্বকাপে। টিকে থাকলো হাজার কোটি ভক্তদের স্বপ্ন। বেঁচে থাকলো মেসি বিশ্বকাপ জয়ের মিশন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ফেনী সরকারি কলেজ।

মন্তব্য করুন: