• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা, চাকরি ছাড়লেন শিক্ষিকা

প্রকাশিত: ১৩:৫৩, ২ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা, চাকরি ছাড়লেন শিক্ষিকা

ছবি: সংগৃহীত

হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় চাকরি ছাড়লেন অভিজ্ঞ এক শিক্ষিকা।  একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও কি পোশাকের কারণেই একজন যোগ্য শিক্ষককে ক্লাসরুম ছাড়তে হতে পারে? আজারবাইজানের রাজধানী বাকু ও সুমগাইতের স্কুলগুলোতে এখন এই প্রশ্নই সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে আজারবাইজান মন্ত্রিসভা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার পরিপন্থী পোশাক নিষিদ্ধ করে সংশোধিত আইন জারি করে। শুরুতে শিক্ষার্থীদের জন্য বলা হলেও কড়াকড়ি নেমে আসে শিক্ষকদের ওপরও। এ ঘটনায় ২১ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন নারী শিক্ষক চাকরি ছেড়ে দিয়ে প্রতিবাদ জানান। ওই শিক্ষকের কাছে চাকরির চেয়েও হিজাবের গুরুত্ব অনেক বেশি।

ইসলাম ধর্মবিশ্বাসীদের জন্য দুনিয়ার মোহের চেয়ে আখিরাতের গুরুত্ব অনেক বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কুলে হিজাব পরিধান করতে না পারায় চাকরি ছেড়ে দেয়া এক নারী শিক্ষকের ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই শিক্ষককে জড়িয়ে ধরছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এদিকে আজারবাইজানের বিভিন্ন জায়গায় অলিখিতভাবে হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়।

সরকারের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অনেক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের খবর সামনে এসেছে। আজারবাইজানের সাম্প্রতিক হিজাব নিয়ে এই বিতর্ক আজারবাইজান ছাড়াও মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ আজারবাইজান। আজারবাইজান সরকারের হিজাব নিয়ে স্কুলে এই অলিখিত নিষেধাজ্ঞা সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়ন, নাকি অন্য কোনো পরিকল্পনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে শিক্ষিকারা হিজাবের বিকল্প হিসেবে আজারবাইজানের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী স্কার্ফ কেলাগাই পরে এসেছিলেন। কিন্তু তাতেও মন গলেনি স্কুল কর্তৃপক্ষের। নিয়ম ভঙ্গের দায়ে বরখাস্ত কিংবা জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে তাঁদের। মানবাধিকারকর্মী এবং সাধারণ অভিভাবকরা বলছেন, পোশাকের চেয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং নৈতিকতা একটি শিশুর ভবিষ্যতের জন্য বেশি জরুরি। দক্ষ শিক্ষকদের এভাবে বিদায় দেয়া শিক্ষার ওপর বড় আঘাত।

আইনের কঠোরতায় হয়তো স্কুলের আঙিনাগুলো হিজাবমুক্ত হবে, কিন্তু ক্লাসরুমের সেই চেনা স্নেহ আর যোগ্য শিক্ষিকাদের শূন্যতা আজারবাইজানের কোমলমতি শিশুরা কীভাবে পূরণ করবে, সেই উত্তর আপাতত জানা নেই কারও।

বিভি/এনএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত