• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সাতরাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ১৬:০৩, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সাতরাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

অন্তর্বর্তী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সাতরাস্তা মোড়ের অবরোধ তুলে নিয়েছেন কারিগরি শিক্ষার্থীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ চলার পর মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টা ১০ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাতরাস্তা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, দশম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগের বিধান করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পেশাগত অধিকার ক্ষুণ্ণ করবে। এ সুপারিশ অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে তারা সড়কে নামেন।

অবরোধের ফলে সাতরাস্তা মোড় দিয়ে চলাচলরত সব ধরনের যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিজয়নগর, ফার্মগেট, মহাখালীসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) তানিয়া সুলতানা দুপুর দুইটার দিকে জানান, সাতরাস্তা অবরোধের সরাসরি প্রভাব আশপাশের সড়কগুলোতেও পড়ে। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করেও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মহাখালীর দিক থেকে আসা কিছু যানবাহন ডাইভারশন দিয়ে পার করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দুপুর তিনটার দিকে কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম মিশান আজকের কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় দেয়া হলো। এই সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে সারা দেশ থেকে কারিগরি শিক্ষার্থীরা ঢাকামুখী হবেন। তখন আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও জানান, আগামীকাল বুধবার পবিত্র শবে বরাতের সরকারি ছুটি থাকায় ওই দিন কোনো কর্মসূচি পালন করা হবে না। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরদিন নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীরাই আবেদন করার সুযোগ পান। কিন্তু উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুপারিশ করা হলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হবে। এ কারণে তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন।

কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের সদস্য আরিফ বিল্লাহ বলেন, এই সুপারিশ বাতিল না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবো। আমাদের দাবি যৌক্তিক, সরকারকে তা মানতেই হবে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: