• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১৪ কি.মি. সড়কে বসানো হলো এআই প্রযুক্তির ১২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৪২, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
১৪ কি.মি. সড়কে বসানো হলো এআই প্রযুক্তির ১২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা

শরীয়তপুর শহরে নাগরিক নিরাপত্তা জোরদারে বড় উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ১২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। শহরের তিনটি প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথের পাশাপাশি পালং, আংগারিয়া ও মনোহর বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস টার্মিনাল, আদালত এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাও এই নজরদারির আওতায় এসেছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক কেন্দ্র, সরকারি কলেজ ও বিদ্যালয়, হাসপাতাল, আদালত চত্বর এবং প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোতেও নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া কীর্তিনাশা নদীর কোটাপাড়া অংশে নৌপথেও যুক্ত হয়েছে সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

ক্যামেরাগুলোতে সংযুক্ত এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহজনক চলাচল, যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা অপরাধমূলক তৎপরতা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংকেত পৌঁছে যাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষে। সেখান থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ বিভাগও এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে।

শহরের ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় এ উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কীর্তিনাশা নদীঘেঁষা এই শহর দিয়ে ঢাকা, চাঁদপুর ও মাদারীপুরমুখী সড়ক যোগাযোগ থাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত ঘটে।

সম্প্রতি শহরে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও সংঘর্ষের মতো একাধিক ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়। গত ২৩ ডিসেম্বর শহরের চৌরঙ্গির মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরের দুটি দানবাক্স ভেঙে অর্থ লুটের ঘটনা আলোচনায় আসে। এর আগে কীর্তিনাশা নদীতে ডাকাতির সময় গণপিটুনিতে সাতজন নিহত হন। বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনাও সামনে আসে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, শহরের বিভিন্ন সড়কে নানামুখী অপরাধের ঘটনা ঘটে থাকে এবং আইনশৃঙ্খলা সভায় এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে ইভটিজিং, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, মাদকসেবীদের আড্ডা, চুরি-ছিনতাই ও মারামারির ঘটনায় উদ্বেগ রয়েছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় পুরো শহরকে সিসিটিভির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ১৪ কিলোমিটার এলাকায় ১২০টি পয়েন্টে ১২০টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে, যাতে বাইরের কেউ প্রবেশ করলে তাকে শনাক্ত করা যায়। সব ফুটেজ রেকর্ড আকারে সংরক্ষিত থাকবে। পুলিশকে লিংক দেওয়া হবে এবং জেলা প্রশাসনের নিজস্ব সার্ভারেও তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। অন্তত এক মাসের ফুটেজ সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকবে।

সব কাজ শেষ হলে আগামী ৮ তারিখ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ কাভারেজ আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত