• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় কিশোরগ্যাং ধরতে সাঁড়াশি অভিযান, স্বস্তিতে নগরবাসী

সুজন মজুমদার, কুমিল্লা

প্রকাশিত: ১৭:৪৫, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কুমিল্লায় কিশোরগ্যাং ধরতে সাঁড়াশি অভিযান, স্বস্তিতে নগরবাসী

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে দুই হাজারেরও বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের এমন তৎপরতায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে শুধু অভিযান নয়, কিশোর অপরাধ বন্ধে পরিবার ও সমাজের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

কখনো দলবদ্ধ আড্ডা, কখনো মোটরসাইকেলের মহড়া। আবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ কিংবা আধিপত্য বিস্তার—কিশোর গ্যাংয়ের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগে ছিলেন কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।

অভিযোগ রয়েছে, কিশোরদের একটি অংশ মাদক, ছিনতাই, মারামারি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে পুলিশ।  কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে দুই হাজারেরও বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্টতা অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে আইনগত ব্যবস্থা। পুলিশের এই তৎপরতায় কিশোর গ্যাংয়ের প্রকাশ্য দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

তারা বলছেন, পুলিশের অভিযান বাড়ায় আমরা অনেকটাই স্বস্তিতে আছি। আগে বিভিন্ন জায়গায় কিশোরদের দলবদ্ধভাবে আড্ডা দিতে দেখা যেত। এখন সেটা অনেক কমেছে। আমরা চাই পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাক।

বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বাড়ায় নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই উদ্যোগকে প্রশংসা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে অপরাধে জড়িত কিশোরদের পাশাপাশি তাদের পেছনে থাকা মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, “কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।”

কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে কুমিল্লায় অনেকটাই কমেছে অপরাধপ্রবণ কিশোরদের প্রকাশ্য তৎপরতা। এতে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে এই স্বস্তি ধরে রাখতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির পাশাপাশি পরিবার এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগও জরুরি। পুলিশের এই তৎপরতা কতটা স্থায়ীভাবে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: