• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

২১তম ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামে নিরাপদ ও মানবকেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যতের তাগিদ

প্রকাশিত: ১৭:৩৯, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৭:৪০, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
২১তম ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামে নিরাপদ ও মানবকেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যতের তাগিদ

বুদ্ধিমান প্রযুক্তির যুগে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী ২১তম বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম (বিআইজিএফ) ২০২৬। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বুদ্ধিমত্তার যুগে ইন্টারনেট শাসন: অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল এবং মানবকেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ।’

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে  এই আয়োজনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী দিনে শিশু ও তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে সচেতন করতে ইয়ুথ লিডারদের নিয়ে একটি বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করে বিআইজিএফ। এ সময় অংশগ্রহণকারী শিশুদের প্রযুক্তি বিষয়ে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের পুরস্কৃত করা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই ফোরামের উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। এতে অনলাইনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যুক্ত হন জাতিসংঘের ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম সচিবালয়ের ডিজিটাল নীতি ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আনজা গেঙ্গো। 

উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্যে জাতিসংঘের তথ্যসমাজবিষয়ক গ্রুপের সদস্য এ এইচ এম বজলুর রহমান সাইবার হামলা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার ও প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। তিনি বৈশ্বিক ইন্টারনেট গভর্ন্যান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়ে মানবাধিকার ও মর্যাদাকে ডিজিটাল নীতির কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানান।

প্রথম দিনের আলোচনায় বিটিআরসির সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ খলিল উর রহমান ডিজিটাল বৈষম্যের নতুন রূপ নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, শুধু ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করাই এখন আর যথেষ্ট নয়; বরং ডিজিটাল দক্ষতা, মানসম্পন্ন নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সব প্রান্তে নেটওয়ার্ক পৌঁছালেও সমতাভিত্তিক ব্যবহার এখনও নিশ্চিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি নতুনদের জন্য ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ও আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ নিয়ে একটি বিশেষ অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর মানবকেন্দ্রিক সুশাসন নিয়ে আলোচনা করেন গাজীপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আসাদুজ্জামান। ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে এআইয়ের যুগে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ’ শীর্ষক মূল বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল নারীদের অনলাইন ঝুঁকির নানা দিক তুলে ধরেন। অসচেতনতায় ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার, একই ডিভাইস একাধিক মানুষের ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত অজ্ঞতার কারণে নারীরা কীভাবে সাইবার স্পেসে অনিরাপদ হয়ে পড়ছেন, তা পরিসংখ্যানসহ বর্ণনা করেন তিনি। একই বিষয়ে কথা বলেন বিএনএনআরসির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হীরেন পণ্ডিত। এছাড়া তরুণদের ক্ষমতায়ন ও এআইয়ের যুগে তাদের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন নাগরিকতার (সিইএফ) সক্ষমতা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ মো. নুরুল ইসলাম।

বিভি/বিএস/এনএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত