• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নম্বর ব্লক করায় ক্লাস থেকে ডেকে এনে দুই ছাত্রীকে জুতাপেটা সহপাঠীর

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশিত: ১৮:৪১, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৮:৪২, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
নম্বর ব্লক করায় ক্লাস থেকে ডেকে এনে দুই ছাত্রীকে জুতাপেটা সহপাঠীর

মোবাইল নম্বর ব্লক করে রাখায় বরিশালের মুলাদী সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে দুই ছাত্রীকে জুতাপেটার অভিযোগ উঠেছে সহপাঠীর বিরুদ্ধে। ওই দুই ছাত্রীকে ক্লাস থেকে ডেকে এনে কলেজের সামনে এই জুতাপেটা করেন সহপাঠী ও তার সাথে থাকা বহিরাগতরা। 

এ ঘটনার বিচার দাবি করে গত শনিবার ভুক্তভোগীরা অধ্যক্ষ এবং ইউএনওর নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজ অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন লিখিত অভিযোগের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন,  ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর সঙ্গে তাদের এক সহপাঠীর বন্ধুত্ব ছিল। তারা একসঙ্গে কলেজে যাতায়াত করতেন। কয়েক দিন আগে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী তাদের সহপাঠীর মোবাইল নম্বর ব্লক করে রাখে। 

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সহপাঠী বৃহস্পতিবার অন্য এক সহপাঠীর মাধ্যমে তাদের শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নেয়। পরে ওই সহপাঠীর বড় বোন নাসরিন আক্তারসহ কয়েকজন বহিরাগত তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অধ্যক্ষ বলেন, লিখিত অভিযোগে দুই ছাত্রী জানিয়েছে অভিযুক্ত সহপাঠী এবং তার সাথে থাকা বহিরাগতরা তাদের চুল ধরে টানাটানি করে। এছাড়া জুতা দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। 

তাদের প্রাণনাশের হুমকির পাশাপাশি কলেজে আসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উল্লেখ করেন ভুক্তভোগীর।

এদিকে তাদের এই ভিডিও কে বা কারা ‌ সামাজিক যোগাযো গমাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায় কলেজ চত্বরে ওই দুই ছাত্রীসহ ৫-৬ তরুণী বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত আছেন। এর এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। ভিডিওতে কয়েকজনকে দুই ছাত্রীর চুল ধরে টানতে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। সেখানে তাদের জুতা দিয়ে বেদম মারধর করার ভিডিও স্পষ্ট দেখা যায়। 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কলেজের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মোবাইলে নম্বর ব্লক করে রাখার জন্য নয়, পূর্বে যে ঘটনা ঘটেছিল তার প্রতিশোধ স্বরূপ এ হামলা চালানো হয়। 

ভুক্তভোগীরা বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কলেজ অধ্যক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তা না হলে তাদের কলেজে আসা-যাওয়া নিরাপদ বলে মনে করছেন না তারা।

অভিযুক্ত ছাত্রীর বোন নাসরিন আক্তার সম্পূর্ণ বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন সেখানে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তা ওই দুই ছাত্রীর জন্যই হয়েছে। তারাই বাহিরের লোকদের নিয়ে তাদের উপর হামলা করার জন্য প্রস্তুত ছিল। এ বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায় তারা হামলা চালালে প্রতিহত করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে। আর যারা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে তারা ওই ছাত্রীদের লোক বলে দাবি করেন তিনি। 

নাসরিন আরো বলেন, এ ঘটনার বিচার দাবি করে কলেজ অধ্যক্ষ ও ইউএন'র নিকট তারাও আবেদন করেছেন। তারাও এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম সরওয়ার বলেন, ছাত্রীদের মধ্যে যে সমস্যা হয়েছে তা সমাধানের দায়িত্ব কলেজের অধ্যক্ষকে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি তিনি বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধান দিতে পারবেন। আমার জানামতে কলেজে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে ওই কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই সুষ্ঠু একটা সমাধান হবে।

মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন বলেন, কলেজের ছাত্রীদের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এ প্রেক্ষিতে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতেই ঘটনার সমাধান দেয়া সম্ভব হবে। আর এ ধরনের ঘটনা কলেজে আর না ঘটে সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি বলে জানান অধ্যক্ষ।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত