বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা, প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন
পিরোজপুরের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট কমান্ডের আয়োজনে সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোলের ওপর এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এতে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. মোস্তফা নুরুল আলমের সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পিপি অ্যাড. সৈয়দ ইফতেখার আলী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেন, আব্দুর রউফ, আব্দুল হামিদ, আব্দুস সোবহান, শফিক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, গণফোরাম নেতা আলিনুর খান বাবুল, জাসদ নেতা হেলালুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল নেতা অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহি, সিপিপি নেতা আবুল হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা স্বপন কুমার শীল প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বিএনপি নেতা অ্যাড. সৈয়দ ইফতেখার আলী এসময় বলেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি আজও তাদের হায়নার রূপ নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে নতুন করে চক্রান্ত শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, একজন মুসলমান কিভাবে আরেকজন মুসলমানের দাফন ও জানাজায় বাধা দিতে পারে ? ৭১-এর এই পরাজিত শক্তি শুধু এখানেই ক্ষ্যান্ত হয়নি, তারা ইতিপূর্বে দেশের শতাধিক মাজার ভেঙে চুরমার করেছে। এমনকি দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটিয়ে চলেছে। এ দেশ রাজাকারের নয়—মন্তব্য করে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বক্তারা এসময় বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের ফলেই আজ জাতি স্বাধীন দেশের মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছে। অথচ সদ্য প্রয়াত একজন বীর সেনানীর শেষ বিদায়ে বাধা দেওয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা পুরো জাতির জন্য গভীর কলঙ্ক জনক। ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে একজন মৃত মানুষের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহের প্রতি এই অসম্মান দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেন তারা। বক্তারা অবিলম্বে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানান।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: